নদিয়ার শান্তিপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে, যেখানে একজন মহিলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে রয়েছে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের অত্যাচার ও হুমকি। শান্তিপুর থানার নৃসিংহপুর মধ্যপাড়া এলাকায় বসবাসকারী এই মহিলা ও অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার প্রতিবেশী ছিলেন। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে, তবে অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোরে ওই মহিলা অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ির কাছ থেকে ফুল তুলতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনা চোখে পড়ে যায় অভিযুক্তের। পরিবারের দাবি, ফুল তোলার ‘অপরাধে’ ওই সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁর সঙ্গে অসভ্য আচরণ করেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে গাছে বেঁধে রেখে কান ধরে ওঠবোস করতে বাধ্য করা হয়। এই অপমানজনক ঘটনার পর মহিলা বাড়ি ফিরে আসেন। তবে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এরপর শনিবার ভোরে তাঁকে বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের লোকজন তৎক্ষণাৎ শান্তিপুর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়মিত পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় দাদাগিরি করতেন। তাঁর এই আচরণের জন্য এলাকার মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে ওই মহিলা গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, যা তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছে। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। তবে অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার ঘটনার পর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনা নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, সিভিক ভলান্টিয়ারদের এমন আচরণ সমাজের জন্য কলঙ্ক।
এই ঘটনা একটি বিস্তৃত সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। এর আগেও পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে চিপস চুরির অপবাদে এক কিশোরকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। বাড়ি ফিরে সেই কিশোর আত্মহত্যা করে বলে পরিবারের দাবি। সেই ঘটনাতেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এই ঘটনাগুলো সিভিক ভলান্টিয়ারদের দায়িত্ব ও আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এই ঘটনায় শান্তিপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা শোকাহত। অনেকে মৃতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, এই ঘটনা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। সমাজে এমন ঘটনা রুখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, যারা এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য সঠিক সহায়তা ও পরামর্শের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে আইনের নিয়ম অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন, ততক্ষণ তাঁকে নির্দোষই গণ্য করা হবে।


