নামেই রাজনৈতিক দল, কিন্তু ভোটের ময়দানে তেমন কোনও অস্তিত্ব নেই। এমন বহু দলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে দলের দাবি, এই ধরনের কয়েক হাজার রাজনৈতিক সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এর পিছনে বিজেপির যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।কংগ্রেসের মুখপাত্র এবং গুজরাট বিধানসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা শক্তি সিং গোহিল এই অভিযোগ সামনে আনেন। তাঁর দাবি, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। এর জন্য জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি বা জেপিসি গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, এত বড় অঙ্কের টাকা কোথা থেকে এল এবং কারা এর সুবিধা পেল, তা খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি কেন সক্রিয় হচ্ছে না।কংগ্রেসের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন প্রায় ৩২৬০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে, যাদের অনেকেই কোনও দিন নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করা সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বা এডিআরের তথ্যকে সামনে রেখে এই দাবি করা হয়েছে।গোহিলের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলকে দেওয়া অনুদানের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের নির্দিষ্ট ধারায় কর ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই কিছু সংস্থা বা ব্যক্তি ওই দলগুলিকে টাকা দিয়েছে বলে অভিযোগ। পরে সেই অর্থের একটি অংশ কমিশন কেটে নগদে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল বলে দাবি কংগ্রেস নেতার। তাঁর অভিযোগ, এভাবেই কালো টাকা ঘুরিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।গুজরাতের ছয়টি তুলনামূলক অপরিচিত রাজনৈতিক দলের উদাহরণও দিয়েছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, গরিব কল্যাণ পার্টি, আম জনমত পার্টি, সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি এবং ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দলের হিসাবে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা এসেছে।এই অভিযোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দলবদলের ঘটনাকেও জুড়েছেন গোহিল। তাঁর দাবি, বেআইনি অর্থ ব্যবহার করে বিরোধী দল ভাঙানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি তৃণমূল থেকে একাধিক সাংসদের নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। তাঁর দাবি, এনসিপিআইয়ের তহবিলে মাত্র ২১ হাজার ৮৬০ টাকা রয়েছে। কোনও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে দলের সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি। কংগ্রেসের অভিযোগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে এখন নজর নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির দিকে।
অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করে ১০ হাজার কোটির টাকার ফাঁকি! বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বিস্ফোরক অভিযোগ
Popular Categories


