কাটোয়া শহরের বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধ দম্পতিকে হুমকি দেওয়া এবং তাঁদের বাড়িতে দলবল নিয়ে গিয়ে চাপ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে চলা বিবাদ মেটানোর নামে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘোষহাট মাধাইতলার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী দিবাকর দত্ত ও তাঁর স্ত্রী সান্ত্বনা দত্ত। ঘটনায় আতঙ্কিত দম্পতি কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন।সীমা ভট্টাচার্য বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি। তৃণমূলের আমলে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তাঁকে সামাজিক মাধ্যমে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।দিবাকর দত্তের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাইয়ের পৈতৃক বাড়ির ভাগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিবাদ চলছে। বিষয়টি কাটোয়া আদালতে বিচারাধীন। দিবাকরবাবুর দাবি, গত ২৫ আগস্ট রাতে তাঁর ভাইয়ের কথায় সীমা ভট্টাচার্য প্রায় ৫০-৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আসেন। এরপর আদালতের বাইরে বিষয়টি মেটানোর জন্য তাঁদের উপর চাপ দেওয়া হয়।দিবাকরবাবু জানান, তিনি বারবার বলেছেন, সম্পত্তির বিষয়টি আদালতে রয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, তিনি সেটিই মেনে নেবেন। কিন্তু অভিযোগ, তাঁর সেই কথায় গুরুত্ব না দিয়ে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি কথা না শুনলে তাঁদের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাধা দিতে গেলে তাঁর স্ত্রীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।দিবাকরবাবুর শরীরে পেসমেকার রয়েছে এবং তিনি উচ্চ রক্তে শর্করার সমস্যাতেও ভুগছেন। তাঁর দাবি, ওই ঘটনার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি আরও ভেঙে পড়েছেন। তাঁর স্ত্রী সান্ত্বনাদেবীর অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চললেও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাঁদের উপর বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।এদিকে সীমা ভট্টাচার্যের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কথোপকথনে দলীয় কার্যালয়ে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ওই ব্যক্তিকে বলা হয়েছে বলে শোনা যায়। অপর প্রান্তের ব্যক্তি আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রশ্ন তোলেন।বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি স্মৃতিকণা বসু জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। দল এ ধরনের আচরণ সমর্থন করে না। দলীয়ভাবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সীমা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে। তিনি শুধু পারিবারিক বিবাদ মেটানোর উদ্দেশ্যেই সেখানে গিয়েছিলেন। কাউকে হুমকি বা হেনস্তা করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন বিজেপি নেত্রী।
কাটোয়ায় সম্পত্তির মীমাংসার নামে বৃদ্ধ দম্পতিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে, দায়ের এফআইআর!
Popular Categories


