জনপ্রিয়তার হার কমার মধ্যেই দলের মধ্যবর্তী সম্মেলন থেকে বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী সম্মেলনে প্রায় দুই ঘণ্টার ভাষণে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫,০০০ ডলার করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প বলেন, “রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও আমাদের সঙ্গে জিতবেন এবং ৫,০০০ ডলার পাবেন।” ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি সামনে আসার পরই এর আর্থিক ও নৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে, যা মার্কিন জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের সমান। ফলে নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা রিপাবলিকান শিবিরের জন্য যেমন ভোটারদের আকৃষ্ট করার হাতিয়ার হতে পারে, তেমনই তা নিয়ে অর্থনৈতিক বিতর্কও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কার্যত নিজের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কল্পনা করুন যে ব্যালট পেপারে আমার নামও রয়েছে।” তবে এমন মন্তব্যের সময় তাঁর জনপ্রিয়তার হার তুলনামূলকভাবে কম এবং দলের কয়েকজন প্রার্থীও দু’দিনের সম্মেলনে অংশ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই সময়কাল ছিল “প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে—আর্থিক ও অন্যান্য সব দিক থেকে—সবচেয়ে সফল দুই বছর।” যদিও এই দাবির সমর্থনে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি।
ভাষণের বড় অংশজুড়ে ছিল ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে আক্রমণ। কংগ্রেসের কোনও একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে আমেরিকানদের সীমান্ত, কর ছাড়, নিরাপত্তা ও সম্পদ বিপন্ন হবে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “আমরা যদি হেরে যাই, তবে আপনারা আপনাদের সীমান্ত হারাবেন, কর ছাড়ের সুবিধা হারাবেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা হারাবেন এবং আপনাদের সম্পদও হারাবেন।” একইসঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের ‘উগ্রপন্থী’ বলে আক্রমণ করে আমেরিকায় কমিউনিজমকে পরাজিত করার কথাও বলেন তিনি।
এদিকে ভাষণে বারবার উঠে আসে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ। ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের “মাত্র দুই বা হয়তো তিন সপ্তাহের দূরত্বে” ছিল। সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, অর্থনীতি ভালো অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়া প্রয়োজন বলে মনে করেছিলেন।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কার মধ্যেই রিপাবলিকান পার্টি তাদের প্রথম মধ্যবর্তী সম্মেলনের মাধ্যমে দলীয় কর্মী ও ভোটারদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। সম্মেলনের সূচি নিয়েও শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমে ট্রাম্পের ভাষণ দ্বিতীয় রাতে হওয়ার কথা থাকলেও পরে তাঁর মূল ভাষণ বুধবারের জন্য নির্ধারিত হয়। ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের পর বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সমাপনী বক্তব্য রাখবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ৫,০০০ ডলারের সরাসরি আর্থিক প্রতিশ্রুতি, ডেমোক্র্যাট-বিরোধী কড়া ভাষা এবং ইরান যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান ভোটারদের একজোট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প।


