অযোধ্যার রামমন্দির পরিদর্শনকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, দলের উত্তরপ্রদেশ শাখার সভাপতি অজয় রাইকে প্রশাসনের তরফে একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলের রামমন্দিরে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। তার আগের রাতেই এই অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল অজয় রাইয়ের। সেই উদ্দেশ্যে তিনি অযোধ্যায় পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তাঁকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। দলের দাবি, পুলিশি নজরদারির মধ্যে তাঁকে হোটেলেই রাখা হয়েছে এবং বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সোমবার গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অজয় রাই। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, অযোধ্যায় পৌঁছানোর পরই পুলিশ তাঁকে হোটেল থেকে নিয়ে যায়। তাঁর দাবি, সরকার রাজনৈতিক কারণে এই পদক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, একটি ধর্মীয় স্থানে প্রার্থনা করতে যাওয়ার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের এমন আচরণ অস্বাভাবিক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।
অজয় রাই আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশাসনের এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন এবং একে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, সম্প্রতি রামমন্দিরের প্রণামীর অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও আবেদন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের রামমন্দির সফর রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতাদের দাবি, রামমন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে আগেই স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। ফলে শেষ মুহূর্তে এমন পদক্ষেপের কোনও যৌক্তিকতা নেই। দলের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই বিতর্কের মাঝেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক মন্ত্রী কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, দলের অনেক নেতাই অতীতে রামমন্দির আন্দোলন বা মন্দির নির্মাণের বিষয়ে সমর্থন জানাননি। তাই তাঁদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, যারা এতদিন মন্দিরের বিরোধিতা করেছে, তাদের এই সফরের উদ্দেশ্য নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে কংগ্রেসের অভিযোগ নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সকলের নজর প্রশাসনের অবস্থান এবং কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


