জাতিগত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কর্ণাটকের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি পুরনো মামলায় বারবার আদালতে হাজির না হওয়ায় বিজেপির বিধায়ক বিপি হরিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বেঙ্গালুরুর একটি বিশেষ আদালত। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।
বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালতের বিচারক সন্তোষ গজানন ভাট এই নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, অভিযুক্তকে আদালতে উপস্থিত করা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও বিধায়ক হাজির হননি, ফলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া অন্য উপায় ছিল না।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের সময়। অভিযোগ, নির্বাচনে জয়ের পর শুভেচ্ছা জানাতে আসা দলিত সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বিপি হরিশ। সেই মন্তব্যে ওই সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এই ঘটনার প্রতিবাদে বহু মহলে ক্ষোভ ছড়ায়।
বিএসপি নেতা ডি হনুমন্তাপ্পা বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই জাতিগত অপমান সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু হয়। যদিও পরবর্তীতে হরিশ ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে তিনি পরে আবারও সেই মন্তব্যকে সমর্থন করেন। এর ফলে বিতর্ক আরও বেড়ে যায়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহল থেকে কঠোর শাস্তির দাবি ওঠে। আদালতও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ তারা পেয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৭ মে-র মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি হরিশের বিরুদ্ধে একমাত্র অভিযোগ নয়। এর আগেও একাধিক বিতর্কে তাঁর নাম জড়িয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দাভাঙ্গেরের তৎকালীন পুলিশ সুপার উমা প্রশান্তকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ওই পুলিশ আধিকারিককে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আইনি ধারায় মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে ভীতি প্রদর্শন এবং একজন মহিলার সম্মানহানির অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে, এই ঘটনাগুলি নিয়ে চাপের মুখে রয়েছেন ওই বিজেপি বিধায়ক।


