একের পর এক সর্বভারতীয় প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কের আবহে ফের প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা। শনিবার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্নাতক স্তরে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা সিইউইটি-ইউজি (CUET-UG)-তে বড়সড় প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপাকে পড়েন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী।
অভিযোগ, কম্পিউটারভিত্তিক এই পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগেই সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। ফলে দিল্লি, বারাণসী, আম্বালা, নয়ডাসহ একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হয়নি। কোথাও পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে বলা হয়, আবার কোথাও কেন্দ্র ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে পড়েন ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকেরা।
ঘটনার জেরে ফের সমালোচনার মুখে পড়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), যারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অধীনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় পরীক্ষা পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক সময়ে নিট-ইউজি, সিবিএসই-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং এসএসসি কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সমস্যার পর এবার সিইউইটি-তে বিভ্রাট কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এনটিএ এদিন প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য দায় চাপিয়েছে পরীক্ষার প্রযুক্তিগত অংশীদার টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর উপর। সংস্থার পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা স্বীকার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বহু কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে দিনের উভয় শিফটের পরীক্ষাই পিছিয়ে দিতে হয়।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi অভিযোগ করেছেন, দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, উচ্চশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলিও যদি সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা না যায়, তবে তা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি গভীর অবহেলার পরিচায়ক।
অন্যদিকে Arvind Kejriwal-ও কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি এবং পরীক্ষাগুলিতে বারবার অনিয়ম ও বিভ্রাটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, সিবিএসই-সংক্রান্ত বিতর্ক এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে জাতীয় স্তরে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পরিচালনায় ধারাবাহিক ব্যর্থতা দেশের ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম সিইউইটি। ফলে এই পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ প্রত্যাশা ও উদ্বেগ থাকে। সেই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে পরীক্ষা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বেড়েছে। এখন পরীক্ষার্থীদের প্রধান প্রশ্ন, স্থগিত বা বিলম্বিত পরীক্ষাগুলি কবে এবং কীভাবে নেওয়া হবে। এ বিষয়ে এনটিএর তরফে বিস্তারিত নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছেন লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী।


