উত্তরাখণ্ডের টেহরি গাড়ওয়াল জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, উচ্চবর্ণের এক নাবালিকা কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে ১৮ বছরের এক দলিত ছাত্রকে রাতভর আটকে রেখে নির্মম অত্যাচার করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা ও দাদুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মৃত ছাত্রের নাম কেতন লাল। সে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে এলাকার এক নাবালিকা কিশোরীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি কিশোরীর পরিবার। অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে কিশোরী নিজেই কেতনকে বাড়িতে দেখা করতে ডাকেন। কেতন তার বন্ধু দিবাকরকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যায়।
কেতনের পরিবারের দাবি, বাড়িতে পৌঁছনোর পরই কিশোরীটির পরিবারের সদস্যরা দুই যুবককে ধরে একটি ঘরে আটকে রাখে। এরপর রাতভর তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। কেতনের বাবার অভিযোগ, ছেলেকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তার পায়ে পেরেকও ঠুকে দেওয়া হয়। হামলার সময় জাতিগত কটূক্তিও করা হয় বলে অভিযোগ।
সোমবার সকালে কেতনের বাবা একটি ফোন পান। তাঁর দাবি, ফোনে কিশোরীর বাবা যশবীর সিং পানওয়ার হুমকির সুরে জানতে চান কেতন কোথায় রয়েছে। পরে তিনি নাকি জানান যে কেতন ও তার বন্ধুকে মেরে ফেলা হয়েছে এবং তাদের দেহ একটি জলধারার কাছে পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে কেতনের বাবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় কেতন ও দিবাকরকে উদ্ধার করা হয়।
কেতনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। অন্যদিকে দিবাকর এখনও চিকিৎসাধীন। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ কিশোরীর বাবা যশবীর সিং পানওয়ার এবং দাদু বিদ্যাদত্ত পানওয়ারকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টেহরি গাড়ওয়ালের পুলিশ সুপার শ্বেতা চৌবে জানিয়েছেন, কিশোরীর পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও কেতন ও ওই কিশোরীর মধ্যে যোগাযোগ ছিল। সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, কোনও বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত পথ বেছে নেওয়া উচিত ছিল। একজন তরুণকে এভাবে নির্যাতন করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।


