Tuesday, September 15, 2026
32 C
Kolkata

উচ্চবর্ণের তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্বের ‘শাস্তি’! পায়ে পেরেক ঠুকে চলল রাতভোর নির্যাতন, উত্তরাখণ্ডে দলিত ছাত্রকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ২

উত্তরাখণ্ডের টেহরি গাড়ওয়াল জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, উচ্চবর্ণের এক নাবালিকা কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে ১৮ বছরের এক দলিত ছাত্রকে রাতভর আটকে রেখে নির্মম অত্যাচার করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা ও দাদুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মৃত ছাত্রের নাম কেতন লাল। সে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে এলাকার এক নাবালিকা কিশোরীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি কিশোরীর পরিবার। অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে কিশোরী নিজেই কেতনকে বাড়িতে দেখা করতে ডাকেন। কেতন তার বন্ধু দিবাকরকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যায়।

কেতনের পরিবারের দাবি, বাড়িতে পৌঁছনোর পরই কিশোরীটির পরিবারের সদস্যরা দুই যুবককে ধরে একটি ঘরে আটকে রাখে। এরপর রাতভর তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। কেতনের বাবার অভিযোগ, ছেলেকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তার পায়ে পেরেকও ঠুকে দেওয়া হয়। হামলার সময় জাতিগত কটূক্তিও করা হয় বলে অভিযোগ।

সোমবার সকালে কেতনের বাবা একটি ফোন পান। তাঁর দাবি, ফোনে কিশোরীর বাবা যশবীর সিং পানওয়ার হুমকির সুরে জানতে চান কেতন কোথায় রয়েছে। পরে তিনি নাকি জানান যে কেতন ও তার বন্ধুকে মেরে ফেলা হয়েছে এবং তাদের দেহ একটি জলধারার কাছে পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে কেতনের বাবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় কেতন ও দিবাকরকে উদ্ধার করা হয়।

কেতনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। অন্যদিকে দিবাকর এখনও চিকিৎসাধীন। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ কিশোরীর বাবা যশবীর সিং পানওয়ার এবং দাদু বিদ্যাদত্ত পানওয়ারকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টেহরি গাড়ওয়ালের পুলিশ সুপার শ্বেতা চৌবে জানিয়েছেন, কিশোরীর পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও কেতন ও ওই কিশোরীর মধ্যে যোগাযোগ ছিল। সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, কোনও বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত পথ বেছে নেওয়া উচিত ছিল। একজন তরুণকে এভাবে নির্যাতন করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

Hot this week

৮৫% পঞ্চায়েতে এখনও খরচ শূন্য! ১২৫ দিনের কাজে বাংলার ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেলেই কেন এমন হাল?

পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের নতুন প্রকল্প শুরু হওয়ার পর...

কালীঘাট আউট, ঋতব্রত ইন! ধূলিয়ান পৌরসভায় চেয়ারম্যান বদলের নেপথ্যে কী নতুন সমীকরণ

মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পুরসভাকে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে...

আবারও গুরুগ্রামে হামলা! কার্গিল-যোদ্ধা প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিককে লোহার রড দিয়ে মারধর!

গুরুগ্রামে ফের প্রকাশ্যে এল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ছবি। একটি...

আলিপুরদুয়ার বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, বিজেপির প্যানেলে তৃণমূলের প্রার্থী!

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আলিপুরদুয়ার বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন। ভোটের আগে...

Topics

কালীঘাট আউট, ঋতব্রত ইন! ধূলিয়ান পৌরসভায় চেয়ারম্যান বদলের নেপথ্যে কী নতুন সমীকরণ

মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পুরসভাকে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে...

আবারও গুরুগ্রামে হামলা! কার্গিল-যোদ্ধা প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিককে লোহার রড দিয়ে মারধর!

গুরুগ্রামে ফের প্রকাশ্যে এল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ছবি। একটি...

আলিপুরদুয়ার বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, বিজেপির প্যানেলে তৃণমূলের প্রার্থী!

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আলিপুরদুয়ার বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন। ভোটের আগে...

স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে BRICS, গাজা থেকে সাধারণ মানুষদের উচ্ছেদে কড়া আপত্তি!

গাজায় চলতে থাকা হিংসা, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে...

Related Articles

Popular Categories