উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকারের জমানায় ধর্মীয় মেরুকরণ এবং উন্মাদনা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার প্রমাণ মিলল মুজাফ্ফরনগরের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়। পবিত্র কাঁওয়ার যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই সেখানে একটি আমিষ খাবারের দোকানে দলবল নিয়ে চড়াও হয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালাল এক কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। সোমবার দিল্লি-হরিদ্বার জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত কিং চিকেন কর্নার নামের একটি দোকানে হিন্দু রক্ষা দলের প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি জন সদস্য অতর্কিতে হামলা চালায়। দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সেটির সাইনবোর্ডটি প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, সিরসোনা গ্রামের এই দোকানটির পাশেই বদ্রি বিশাল ভোজনালয় নামের একটি নিরামিষ হোটেল রয়েছে। দেবতার নামের পাশে কোনও আমিষ দোকান চালানো যাবে না, এই অযৌক্তিক এবং একগুঁয়ে দাবি তুলেই উগ্রপন্থী হিন্দুত্ববাদীরা এই গুন্ডামি চালায়। অথচ ওই সম্পত্তির মূল মালিক নরেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, একই জমিতে থাকা দু’টি হোটেলের একটি তিনি নিজে চালান এবং অন্য অংশটি আজাদ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়েছেন। এমনকি ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে কাঁওয়ার যাত্রা চলাকালীন আমিষ দোকানটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার চুক্তিও হয়েছিল। কিন্তু আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যোগীরাজ্যের উগ্রপন্থীরা নিজেদের হাতেই আইন তুলে নেয়।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী মালিকপক্ষের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে হিন্দু রক্ষা দলের নেতা হেমন্ত শর্মা সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যদিও ধৃত নেতা নিজের অপরাধ ঢাকতে সাফাই দিয়েছেন যে, তাঁরা নাকি কেবল সাইনবোর্ড সরাতে সাহায্য করছিলেন। যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে এভাবে একের পর এক সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর উগ্রপন্থীদের হামলা এবং জোরপূর্বক ব্যবসা বন্ধ করার এই সংস্কৃতি বিজেপির জমানায় ছায়াশাসনের আসল রূপটিকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে।


