দিল্লিতে বিজেপির বিরুদ্ধে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনা উঠেছে তাদের সামাজিক মাধ্যমে চালানো এক প্রচারকে ঘিরে। অভিযোগ, নির্বাচনী তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর কে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিভাজনমূলক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে।
দিল্লিতে বিজেপির বিভিন্ন অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে যে পোস্টগুলি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে টুপি–দাড়িওয়ালা কার্টুন, বোরখা পরা মানুষের ছবি, এমনকি কোথাও কোথাও মুসলিমদের ইঁদুর, শূকর বা মশার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এসব ছবি শুধু অপমানজনকই নয়, ইচ্ছে করেই পুরো একটি সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এসআইআর মূলত নির্বাচন কমিশনের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় ভুলত্রুটি সংশোধন করা হয়। কিন্তু বিজেপির কিছু নেতা এটিকে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান বলে তুলে ধরছেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। বিহারের সরকারি নথিতে দেখা গেছে, সেখানে এই প্রক্রিয়া শুরুর সময় যাদের বিদেশি ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তাদের সংখ্যা ছিল মোট ভোটারের মাত্র ০.০১২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্যই প্রমাণ করে যে অনুপ্রবেশকারীদের স্রোত বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার ভিত্তি খুবই দুর্বল।
সমালোচনার দাবি, প্রকৃত সমস্যা খুঁজে বের করার বদলে দিল্লি বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলিমদেরই সন্দেহজনক করে দেখাতে চাইছে। একাধিক পোস্টে বাংলাদেশ বা মায়ানমার থেকে আসা অভিবাসীদের সঙ্গে এই দেশের মুসলিম নাগরিকদের একইভাবে দেখানো হয়েছে, যা অধিকারের সংগঠনগুলির মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করা।
১ ডিসেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন দিল্লি বিজেপির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্টার সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুসলিম পোশাকে দেখিয়ে বোঝানো হয়, এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানেই অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষ নেওয়া।
অসমেও একই ধরণের বার্তা ছড়াচ্ছে বিজেপির একাধিক সমাজ মাধ্যমে একাউন্ট। সেখানকার মন্ত্রী অশোক সিংহল যে ছবি পোস্ট করেছেন, তা নিয়ে অনেকে বলছেন, এতে অতীতের হিংসাত্মক ঘটনার স্মৃতি উসকে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুপ্রবেশকারী শব্দটি দীর্ঘদিন ধরেই ভোটরাজনীতির একটি হাতিয়ার। কিন্তু নির্বাচনের সময় এই ভাষা আরও তীব্র হয় এবং অনেক সময় সাধারণ ভারতীয় মুসলিমরাও তার শিকার হন। মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলছেন একটি সম্প্রদায়কে বারবার ভিনদেশি হিসেবে দেখানো হলে বাস্তবে তার ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে পারে।


