দিল্লির স্কুল অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার (এসপিএ) ক্যাম্পাসে অবস্থিত শিক্ষা মন্ত্রকের একটি দফতরে সোমবার সকালে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন দেখা যাওয়ার পর দ্রুত শুরু হয় উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণের কাজ। তবে স্বস্তির খবর, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ন’টার কিছু পরে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত কয়েকটি কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় দমকলকর্মীরা অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে নেমে পড়েন।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, স্থানীয় থানায় সকালেই ঘটনার খবর পৌঁছায়। এরপর পুলিশকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। আগুন লাগার সময় ভবনের ভেতরে থাকা কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
এসপিএ-র এক কর্মী প্রথম ধোঁয়া দেখতে পান। পরে তিনি জরুরি পরিষেবায় ফোন করে বিষয়টি জানান। তাঁর তৎপরতার কারণেই দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
দমকলের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স, দুটি পিসিআর ভ্যান, ট্রাফিক পুলিশ এবং স্থানীয় থানার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যাতে ক্যাম্পাসের ভিতরে এবং আশপাশের এলাকায় কোনও বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ চালান। শেষ পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরে তা সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ভবনের কোথাও আর আগুনের অস্তিত্ব নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
যদিও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ দফতরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ হলে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।


