ঈদের দিনেই ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল দেশের রাজধানী দিল্লিতে। এক র্যাপিডো বাইক ট্যাক্সি চালক মুসলিম যাত্রীকে তুলতে অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গিয়েছে, কেরলের বাসিন্দা জাইন নামের এক সাংবাদিক বর্তমানে দিল্লিতে থাকেন। সেদিন তিনি র্যাপিডো অ্যাপের মাধ্যমে একটি বাইক ট্যাক্সি বুক করেন। তাঁর জন্য বরাদ্দ হয় সুবাস রাওয়াত নামক এক চালক। কিন্তু যাত্রী মুসলিম জেনে ওই চালক যাত্রা বাতিল করে দেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওটি জাইন নিজেই শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, তিনি চালকের সঙ্গে কথা বলছেন এবং জানতে চাইছেন কেন তাঁকে নেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ অনুযায়ী, চালক সরাসরি বলেন যে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাউকে তিনি নিজের গাড়িতে তুলবেন না। এমনকি তিনি কড়া ভাষায় কথাও বলেন এবং ফোন না করার জন্য সতর্ক করেন।
জ়াইনের দাবি, চালক প্রথমে রাইড গ্রহণ করলেও পরে তাঁর পরিচয় জানার পর তা বাতিল করেন। উল্লেখ্য, ওই চালকের অ্যাপে প্রায় ৪.৫ রেটিং ছিল, যা সাধারণত ভালো পরিষেবার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এই ঘটনার পর সেই ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির সিরি ফোর্ট এলাকার কাছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকেই এই ঘটনাকে ধর্মীয় বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এই ধরনের আচরণ শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং সমাজে বিদ্যমান বিভাজনের প্রতিফলন। বিশেষ করে গণপরিবহনে এমন বৈষম্য উদ্বেগজনক বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিতর্ক বাড়তেই র্যাপিডো সংস্থা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে তারা এই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং চালকের আচরণকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, তাদের নীতিমালায় এ ধরনের বৈষম্যের কোনও স্থান নেই।
র্যাপিডো আরও জানায়, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সম্মান তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও সংস্থা জানিয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠছে, দৈনন্দিন জীবনে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য কতটা গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিভেদ বাড়াতে পারে, তাই এ বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।


