প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে দেশের মধ্যে অন্যতম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী কার্যকলাপ হয়। তবে এই প্রথম নয়, যাদবপুর নিয়ে এর আগেও বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন দিলীপ ঘোষ।
সাংবাদিককদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যাদবপুর ভালো ছেলে মেয়েদের পড়ার জায়গা হলেও ওটা এখন দেশবিরোধী কার্যকলাপের আখড়া হয়ে গেছে। ওখানে অসভ্য বানানোর ফ্যাক্টরি খোলা হয়েছে। বাবুল সুপ্রিয় বা রাজ্যপালের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা সবাই দেখেছে”।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরের এক নির্বাচনী সভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে এবং পড়াশোনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্দোলনের কেন্দ্র না করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। অতীতে আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মান পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বজায় রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রসমাজের মধ্যে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অনুপম দেব সরকার প্রশ্ন তোলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিই দেশবিরোধী কার্যকলাপের কেন্দ্র হয়ে থাকে, তাহলে ইসরো, ডিআরডিও বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্প সেখানে পরিচালিত হচ্ছে কেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থার র্যাঙ্কিংয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অনুদান ও ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ স্বীকৃতি না দেওয়ার ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষার স্বার্থে প্রতিবাদ জানালেই ছাত্রদের দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।


