পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। খড়্গপুরে এক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে বিরোধী মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।
সভামঞ্চ থেকে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, ভোটে বিজেপি জিতলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার চেহারা পুরো বদলে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, বর্তমানে পুলিশের একাংশ অপরাধীদের সঙ্গে নরম ব্যবহার করছে। কিন্তু ক্ষমতায় এলে সেই একই পুলিশ “কঠোর পদক্ষেপ” নেবে এবং অপরাধ দমনে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বার্তা কি দিচ্ছে বিজেপি? বিরোধীদের অভিযোগ, “এনকাউন্টার” রাজনীতির কথা বলে ভয় দেখিয়ে ভোটে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে বিপজ্জনক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
দিলীপ ঘোষ তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, অতীতে রামনবমীর সময় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তিনি নাকি ভয় দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কাউকে ভয় পান না এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ে সবসময় শক্ত অবস্থান নিয়েই এগিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, খড়্গপুরের মানুষ তাঁর এই ‘কড়া’ ভাবমূর্তির জন্যই তাঁকে সমর্থন করে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ভাষণ ভোটের আগে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে “এনকাউন্টার” বা কঠোর পুলিশি পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে বললে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় ও বিভাজনের রাজনীতি করছে, যাতে আসন্ন নির্বাচনে লাভবান হওয়া যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষ অন্য কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েও পরাজিত হন। এরপর কিছুদিন তিনি দলের কর্মসূচিতে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। তবে এবারের বিধানসভা ভোটে তাঁকে খড়্গপুর থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি, এবং প্রচারে নেমেই তিনি আবার আগের মতো আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা দিচ্ছেন।
বিরোধীদের দাবি, উন্নয়ন বা বাস্তব সমস্যা নিয়ে আলোচনা না করে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে কড়া ভাষা ব্যবহার করছে। এতে সাধারণ মানুষের মূল সমস্যা আড়াল হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভোটের আগে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।


