দিল্লি রেলস্টেশনে মুসলিম ছাত্রদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য। অভিযোগ, হায়দরাবাদ থেকে উত্তরপ্রদেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া একদল ছাত্রকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক আচরণ করা হয়। তারা দারুল উলুম দেওবন্দে পরীক্ষার জন্য যাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
২৬ মার্চের এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ছাত্র শান্তভাবে নিজেদের ট্রেনের অপেক্ষা করছেন। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে সহজেই বোঝা যায় তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের। এমন সময় গেরুয়া পোশাক পরা এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন।
ভিডিওতে শোনা যায়, ওই ব্যক্তি হিন্দিতে হুমকির সুরে বলছেন, “গরু হত্যা কোরো না, না হলে তোদের মেরে ফেলা হবে।” এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে হুমকির ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। যে ছাত্রটি ভিডিওটি রেকর্ড করে প্রকাশ করেছেন, তিনি জানান, তারা কেউ কোনও ঝামেলায় জড়াননি। শুধু পরবর্তী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তার কথায়, এই ধরনের আচরণ সম্পূর্ণভাবে পরিচয়ের ভিত্তিতে উসকানি দেওয়ার মতো। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এমন পরিস্থিতি সহজেই বড় কোনও সমস্যার দিকে গড়াতে পারে, বিশেষ করে যদি কেউ উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।
তিনি অন্য ছাত্রদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার বক্তব্য, অনেক সময় ইচ্ছাকৃত ভাবে উত্তেজনা তৈরি করা হয়, যাতে কেউ রাগে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং পরে তাকে দোষী প্রমাণ করা যায়। তাই এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা এবং ঝামেলা এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
দারুল উলুম দেওবন্দ উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বহু বছর ধরে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ছাত্র এখানে পড়াশোনা ও পরীক্ষার জন্য আসেন। তাই এই ধরনের ঘটনার ফলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আবার অনেকে ছাত্রদের সংযমের প্রশংসা করেছেন। কারণ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও তারা কোনও রকম প্রতিক্রিয়া দেখাননি এবং শান্তভাবে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য যাতায়াত কতটা নিরাপদ, বিশেষ করে যখন তাদের পরিচয়কে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে লক্ষ্য করা হয়।


