২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খড়্গপুর ও মেদিনীপুর।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্ধারিত রোড-শোর কয়েক ঘণ্টা আগেই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বর্ষিয়ান নেতার মন্তব্যে, হাই ভোল্টেজ নির্বাচনের আগে আরও একবার অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য বিজেপি। খড়্গপুর শহরের তালিবাগিচা এলাকায় প্রচারে গিয়ে দিলীপ ঘোষ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, বহু ভুয়ো নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে এবং আরও অনেকে বাদ পড়বেন। তাঁর কথায়, এই ভুয়ো ভোটারদের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি বাদ পড়া কিছু ভোটারকে দেশবিরোধী বলেও আখ্যা দেন, যা ঘিরেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত।বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে। বিরোধীদের দাবি, দিলীপের এই বক্তব্য বিজেপির প্রকৃত মানসিকতাকে সামনে এনেছে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হল আর ইনি সাথে সাথে তাঁদের দেশদ্রোহী বলে দিলেন। আগে অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা বলতেন উনি। যখন বিজেপির নেতা ছিলেন তখন ২ কোটি বাঙালিকে বাংলা ছাড়া করার কথা বলেছিলেন। যে গরুর দুধ থেকে ছানা বানানোর বদলে সোনা বানায় তার কাছ থেকে শিখতে হবে কে দেশদ্রোহী আর কে দেশদ্রোহী নয়? ক্ষমা চাইতে হবে। এখন দেখার হিংসা ও মিথ্যাচার করার অভিযোগে কোন ডিএম, এসপি, কোন আইজি, কোন আইসি, কোন সিইও সুয়োমোটো কেস করেন”।ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গেছে, তাঁদের মধ্যে বড় অংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের। সেই কারণে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয় এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হবে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
SIR এ নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের দেশদ্রোহী আখ্যা! ফের দিলীপের মন্তব্যে অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি
Popular Categories


