রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই আবহে নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নির্ধারিত বাংলা সফর আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ১ ও ২ মার্চ একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলের আসার কথা ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। পরে নতুন তারিখ জানানো হবে বলে সূত্রের খবর।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বকেয়া কাজ দ্রুত শেষ করতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে অন্য রাজ্য থেকেও বিচারক আনার কথা বলা হয়েছে। এখনও লক্ষাধিক আবেদন ও আপত্তির নিষ্পত্তি বাকি। প্রতিদিন গড়ে ২৫০টি করে শুনানি হলেও পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় আড়াই মাস সময় লাগতে পারে বলে আদালতে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের পরপরই নির্বাচন কমিশন নতুনভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের কাজে নামিয়েছে। বুধবার তাঁদের দু’দফায় অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সকাল ও দুপুরে পৃথক ভার্চুয়াল সেশনে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও নাম তোলা ও সংশোধনের কাজ চালু থাকবে বলে জানা গেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশন শুরু থেকেই কড়া নজরদারির পরিকল্পনা করছে। সূত্রের খবর, নির্বাচনের সূচি ঘোষণার সঙ্গেই একাধিক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক রাজ্যে পাঠানো হতে পারে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগের ভাবনাও রয়েছে। মনোনয়ন জমা থেকে গণনা পর্যন্ত সব ধাপেই তাঁদের সরাসরি তদারকি থাকবে।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম ও পুদুচেরিতেও একই কৌশল নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাই করা কেন্দ্রীয় পরিষেবার ১৪৪ জন আধিকারিককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।


