গুজরাটের আমদাবাদের বাপুনগর এলাকায় এক পথখাবার মুসলিম বিক্রেতাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শাহজাহান নামে ওই বিক্রেতা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্যবসা করতেন। অভিযোগ, গত ৮ এপ্রিল কিছু ব্যক্তি এসে তাঁকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ১২ এপ্রিল সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ওই বিক্রেতার কাছে গিয়ে প্রথমে তাঁর পরিচয় জানতে চান। পরে তাঁর আধার কার্ড দেখতে চান। নাম জানার পর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি ওই এলাকায় ব্যবসা করছেন। অভিযোগ, তাঁকে বলা হয় যে ওই এলাকা হিন্দু অধ্যুষিত এবং সেখানে শুধুমাত্র হিন্দুরাই ব্যবসা করতে পারবেন। এরপর তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তাঁরা বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওই দলটি আশপাশের অন্যান্য বিক্রেতাদের কাছেও গিয়ে একই ধরনের সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে কাজ করতে বাধা দেওয়া ঠিক নয়। এতে সামাজিক সম্প্রীতির উপর প্রভাব পড়তে পারে বলেও মত তাঁদের।
এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। দেশের অন্য রাজ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। পঞ্জাবের লুধিয়ানায় এক মুসলিম ব্যান্ডশিল্পীকে কাজ করার সময় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে খবর। আবার রাজস্থানে এক বিক্রেতাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলা এবং কাজের অনুমতি নিতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে, জনসমক্ষে কাজের ক্ষেত্রে কি ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন বাড়ছে? অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের প্রবণতা বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবিকা সংকটে পড়তে পারে। তবে আমদাবাদের এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়। আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরেই আলোচনা চলছে। এই ঘটনা শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার দিকেও ইঙ্গিত করছে।


