দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল। কিন্তু ভোটকে ঘিরে একাধিক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ সামনে আসার পর সেই ভোট বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর নতুন করে ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়।
পুনর্নির্বাচন ঘিরে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এদিন গোটা এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন বুথে কড়া নজরদারির পাশাপাশি রুট মার্চও চালানো হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত মাসের ভোটে ফলতার একাধিক বুথ থেকে ইভিএম মেশিনে কালি মাখানো, টেপ লাগানো এবং সুগন্ধি জাতীয় পদার্থ লাগানোর মতো অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছিল, পরিকল্পিতভাবে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনার রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই পুনর্ভোটের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই ফলতা কেন্দ্র রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ভোটের আগে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন তৎকালীন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। নির্বাচনে কোনও ধরনের গোলমাল বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। যদিও সেই সময় জাহাঙ্গির আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতেই নিজের অবস্থান বজায় রেখেছিলেন।
কিন্তু ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর ফলতার চিত্রও বদলাতে শুরু করে। পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে আচমকাই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির খান। এরপরই এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয় দেখিয়ে রাজনীতি চালানো হত।
জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও কেন তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হল না। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক Ritabrata Banerjee প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, জাহাঙ্গিরকে এখনও দল থেকে বহিষ্কার না করায় অনেকের মনেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, দলের অন্য নেতাদের তুলনায় জাহাঙ্গিরকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হত বলেই মনে হয়েছে। পুনর্নির্বাচনের দিন ফলতায় রাজনৈতিক উত্তাপ যথেষ্ট বেশি।


