মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে এবার মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে ইরানের সাধারণ মানুষ। দেশের বিভিন্ন মসজিদে মহিলা, কিশোর-কিশোরী এবং সাধারণ নাগরিকদের হাতে একে-৪৭ রাইফেল তুলে দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এই প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করছে বলে জানা গিয়েছে।
ইরানের সরকারি টেলিভিশনে সম্প্রতি সম্প্রচারিত একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তেহরান-সহ দেশের বিভিন্ন শহরের মসজিদে অস্ত্র চালানো শেখানো হচ্ছে। সেখানে শুধু যুবক নয়, হিজাব পরা মহিলাদেরও হাতে রাইফেল ও রকেট লঞ্চার দেখা যায়। এমনকি ১৬-১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীরাও প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
প্রশিক্ষণে মূলত একে-৪৭ রাইফেল, হ্যান্ড গ্রেনেড, রকেট প্রপেল্ড গ্রেনেড এবং ছোট আকারের রকেট লঞ্চার ব্যবহারের কৌশল শেখানো হচ্ছে। অস্ত্র খুলে জোড়া লাগানো, পরিষ্কার রাখা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার নিয়মও শেখানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় এই কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন।
ইরানের বিভিন্ন শহর যেমন আহভাজ, শিরাজ, কেরমান ও জাহেদানের মসজিদে এই শিবির চালানো হচ্ছে। সামরিক পোশাক পরা প্রশিক্ষকদের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বন্দুক চালানোর অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছে। বহু জায়গায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের ছবি টাঙানো রয়েছে।
আইআরজিসির এক সদস্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, দেশের মানুষকে “প্রতিশোধের জন্য প্রস্তুত” করতেই এই উদ্যোগ। তাঁর দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় বহু নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই মানুষ অস্ত্র প্রশিক্ষণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কয়েকজন মহিলা জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁরা সন্তানদের নিয়ে মসজিদে যাচ্ছেন। বিদেশি সেনা ইরানে হামলা চালালে সাধারণ মানুষও পাল্টা লড়াইয়ে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবেই একে-৪৭ ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে। কারণ এই রাইফেল সহজে চালানো যায় এবং দ্রুত ব্যবহার শেখা সম্ভব। তাঁদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যদি মার্কিন সেনা ইরানে স্থল অভিযান চালায়, তবে সাধারণ মানুষকে সামনে রেখেই গেরিলা যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে তেহরান।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাল্টা ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগ্ছি সমাজমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, যুদ্ধে ফিরলে ইরান “নতুন চমক” দেখাতে প্রস্তুত।


