কেন্দ্রের দাবি, দেশের কৃষকদের আয় গত কয়েক বছরে অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু এই দাবিকে একেবারেই মানতে নারাজ বিভিন্ন কৃষক সংগঠন। তাঁদের বক্তব্য, বাস্তবে চাষিদের অবস্থা আগের চেয়েও কঠিন হয়ে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলে আর্থিক চাপ বাড়ছে, আর তার ফলেই কৃষকদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে সংসদে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের মন্তব্যের পর। তিনি বলেন, সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তার পরপরই সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (এসকেএম) এই দাবির বিরোধিতা করে। সংগঠনের দাবি, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে বিপুল সংখ্যক কৃষক, কৃষিশ্রমিক এবং পরিযায়ী শ্রমিক আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন, যা দেশের কৃষি ব্যবস্থার সংকটকেই তুলে ধরে।
কৃষক সংগঠনগুলির মতে, ঋণের বোঝাই এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। চাষের খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ফসলের দাম মিলছে না। ফলে অনেক কৃষক ধার করে চাষ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং পরে সেই ঋণ শোধ করতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনার উদাহরণ টেনে সংগঠনগুলি জানিয়েছে, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য ঋণদাতাদের চাপও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কৃষক সংগঠনগুলি। তাঁদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে এমএসপি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে অনেক সময় সেই দামে ফসল বিক্রি করা যায় না। সরকার সীমিত পরিমাণ ফসল কিনে নেওয়ায় অধিকাংশ চাষিকে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের আয় কমে যাচ্ছে এবং আর্থিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার নেতারাও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁদের দাবি, স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী উৎপাদন খরচের ওপর অন্তত ৫০ শতাংশ লাভ যোগ করে এমএসপি নির্ধারণ করতে হবে। তবেই কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
কৃষক সংগঠনগুলির আরও অভিযোগ, সরকারের কিছু নীতি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব মিলিয়ে কৃষিক্ষেত্রে চাপ আরও বেড়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে এখনও স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে কৃষকদের দাবি ও সরকারের বক্তব্যের মধ্যে ফারাক থেকেই যাচ্ছে।


