নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নামের বানান নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শনিবার প্রকাশিত তালিকায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামের বাংলা বানান ভুল রয়েছে। তবে ইংরেজি সংস্করণে নামটি সঠিকভাবে লেখা আছে। শুধু বিচারপতির নামই নয়, রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাংলা বানানের অসংখ্য ভুল ধরা পড়েছে।বিচারপতি বাগচী গত ৯ ফেব্রুয়ারি এসআইআর মামলার শুনানিতে কমিশনের দিকে প্রশ্ন করেছিলেন, সফটওয়্যারের কারণে নামের ছোটখাটো পার্থক্যের জন্য নাগরিকদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, বাংলা পরিবারের মধ্যে ‘কুমার’ প্রায়ই মধ্যনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদি এটি বাদ পড়ে, তাতেও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কমিশন তখন জানিয়েছিল, এ ধরনের সমস্যা ইংরেজি বানানেই রয়েছে, বাংলার বানানের জন্য কাউকে শোনানো হয়নি।তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, শুধু বিচারপতিই নয়, প্রচুর ভোটারের নামের বাংলা বানানও ভুল আছে। কমিশন স্বীকার করেছে যে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বাংলায় নামের বানান ঠিকমতো প্রতিফলিত হয়নি। তাদের যুক্তি, ভোটারদের নাম দেখার ক্ষেত্রে ইংরেজি সংস্করণকে প্রধান হিসেবে দেখা উচিত। তবে এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, প্রান্তিক মানুষদের জন্য বাংলায় ভুল বানানে নাম থাকলে তারা কি তা সহজভাবে যাচাই করতে পারবেন?নতুন ভোটার কার্ডের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেহালার এক বাসিন্দা জানান, তাঁর কার্ডে ইংরেজি নাম সঠিক থাকলেও বাংলায় নামের বানান ভুল। এমন পরিস্থিতিতে ভোটারদের অভিযোগ, ভুল বানানের কার্ড ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়া পড়ছে। কমিশনের মতে, পুরনো তালিকায় ২০০২ সালের ভুলও এভাবে থেকে গিয়েছে। নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে সমস্যা অনেক কম।বিশ্লেষকরা বলছেন, কমিশন অত্যধিক প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় এই ধরনের ত্রুটি ঘটছে। বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করলে এবং ভোটাররা তা পূরণ করে জমা দিলে ভুল কমে যেত। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের নামের সঠিক বানান নিশ্চিত করা এবং বাংলায় তথ্যের যথার্থতা বজায় রাখা জরুরি। না হলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অভিযোগ বাড়তে পারে।
এসআইআর মামলার শুনানির কক্ষে থাকা বিচারপতি বাগচীর নামও ভুল উঠল চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়!
Popular Categories


