রাজ্যে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে প্রকাশিত হচ্ছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। শনিবার দুপুরের মধ্যেই ধাপে ধাপে তালিকা অনলাইনে তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, উত্তর কলকাতার একাধিক ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই খবর সামনে আসতেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই এই সংশোধন। গত কয়েক মাস ধরে চলা নথি যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি আবেদন ও নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় ঝুলে রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত। যুক্তিগত অসামঞ্জস্য বা নথির ত্রুটির জেরে বহু নাম আপাতত স্থগিত অবস্থায় আছে।
বিশেষ পর্যালোচনার আগে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। সংশোধনের পর আপাতত ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষের কাছাকাছি। যদিও কমিশনের দাবি, সংশোধন প্রক্রিয়া এখানেই থেমে থাকছে না; প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে সম্পূরক তালিকাও প্রকাশ করা হবে।
ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও কম উত্তাপ নেই। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই নজর রাখছে কোন এলাকায় কত নাম বাদ গেল বা যুক্ত হল। কারণ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যে চূড়ান্ত তালিকা বলবৎ থাকবে, সেই তালিকা ধরেই হবে আসন্ন নির্বাচন।
তালিকা দেখার জন্য ভোটারদের এপিক নম্বর প্রয়োজন। দুপুরের পর থেকেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে তালিকা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালেও নাম খোঁজার সুযোগ মিলছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও তালিকা দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
উত্তর কলকাতার বেশ কিছু পরিবার ইতিমধ্যেই খোঁজ নিতে শুরু করেছেন তাঁদের নাম রয়েছে কি না। বহু মানুষের প্রশ্ন, নাম বাদ গেলে কীভাবে সংশোধনের আবেদন করবেন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই পুনরায় আবেদন জানানো যাবে।
সব মিলিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনেও অনিশ্চয়তা পুরো কাটল না। ভোটের আগে তালিকা নিয়ে টানাপোড়েন যে আরও কিছু দিন চলবে, তা স্পষ্ট।


