গুজরাত বিধানসভায় আদিবাসী উন্নয়ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত পড়ে থাকার তথ্য সম্প্রীতি সামনে এসেছে। রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রীর জবাব থেকে জানা যায়, গত দুই অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দ করা টাকার একটি বড় অংশ সময়মতো খরচ করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গত দুই বছরে আদিবাসী উন্নয়নের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে মোট ১,৩২১ কোটি টাকা ব্যবহার না করেই পড়ে রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৪,৩৭৩.৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩,৪০৭.২২ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অনুমোদন পায়। শেষ পর্যন্ত ৩,৩৭৩.৩৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ফলে ওই বছরে অব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে কম, প্রায় ৩৩.৮৪ কোটি টাকা। যদিও এই সামান্য অঙ্কও প্রকল্প শেষ করার ক্ষেত্রে ধীরগতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই বছরে ৫,১২০.০৩ কোটি টাকার বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়। তবে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তার মধ্যে ৩,৬৯৯.০৩ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়। বাস্তবে খরচ হয়েছে ২,৪১০.৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১,২৮৮.৩৯ কোটি টাকা এখনো ব্যবহার করা যায়নি, যা মোট বরাদ্দের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
সরকারের দাবি, নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা, প্রকল্প বাছাই, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সুবিধাভোগীদের আবেদন যাচাই করতে সময় লাগে। মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে খরচের হিসাবের কারণেও ব্যয়ের গতি কমে যায় বলে তাদের বক্তব্য।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, বরাদ্দ বাড়লেও মাঠ পর্যায়ে কাজের গতি সেই অনুপাতে এগোয়নি। ফলে আদিবাসী এলাকাগুলিতে উন্নয়নমূলক পরিষেবা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় গতি না এলে কাগজে থাকা বড় অঙ্কের বাজেট বাস্তবে ফল দেবে না। বিধানসভায় প্রকাশিত এই তথ্য প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।


