Wednesday, July 22, 2026
26.3 C
Kolkata

পাঁচ বছর ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকতো অন্যের একাউন্টে, অভিযোগ করা সত্ত্বেও মেলেনি সাহায্য

মধ্য হাওড়ার এক গৃহবধূ কবিতা মণ্ডলের জীবনে দুঃখ যেন নিত্যসঙ্গী। স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বাতের ব্যথায় প্রায় চলাফেরা করতে পারেন না। আগে একটি অফিসে কাজ করতেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সাত বছর ধরে তিনি ঘরেই বসে আছেন। সংসারে আরও আছেন স্বামীর দুই বিধবা বোন। চার জনের পরিবার চালাতে গিয়ে কবিতাকে প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে। কবিতা বাড়ির কাজ সামলানোর পাশাপাশি কেটারিং সংস্থার জন্য সবজি কেটে সামান্য কিছু টাকা উপার্জন করেন। সেই আয়েই কোনোমতে চুলো জ্বলে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার টাকাও থাকে না।

এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের মাসিক ভাতা তাঁর জন্য খুবই দরকার ছিল। কিন্তু অভিযোগ, আবেদন অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি এক টাকাও পাননি। ২০২১ সালে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন করেছিলেন। পরে সরকারি নথিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তও হয়। কিন্তু যখন আশপাশের অন্য মহিলারা ভাতা পেতে শুরু করেন, তখন তিনি দেখেন তাঁর ব্যাঙ্ক হিসাবে কোনও অর্থ জমা পড়ছে না। বিষয়টি জানতে তিনি স্থানীয় গ্রামীণ ব্যাঙ্কে যান। সেখান থেকে জানানো হয়, এই ভাতার বিষয়টি জেলা সমাজকল্যাণ দফতর দেখাশোনা করে। এরপর থেকে শুরু হয় দফায় দফায় দৌড়ঝাঁপ। কবিতা জানান, বহুবার দফতর ও ব্যাঙ্কে গিয়েও তিনি সঠিক উত্তর পাননি। কখনও বলা হয়েছে সমস্যা মিটবে, কখনও আবার অন্য জায়গায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অবশেষে এক পরিচিত মানুষের সহায়তায় তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে বরাদ্দ টাকা নাকি অন্য এক অচেনা ব্যক্তির ব্যাঙ্ক হিসাবে চলে যাচ্ছে।

এই ঘটনা নাকি এক-দু’মাস নয়, টানা পাঁচ বছর ধরে ঘটেছে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা অন্যত্র পাঠানো হয়েছে, অথচ প্রকৃত প্রাপকের হাতে কিছুই পৌঁছায়নি। কবিতার প্রশ্ন, যদি তাঁর নাম নথিভুক্ত থাকে, তা হলে কেন নতুন করে আবেদন করতে হবে? এতদিনের বকেয়া অর্থ কবে মিলবে, তারও স্পষ্ট জবাব মেলেনি। জেলা সমাজকল্যাণ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ভুল হিসাবে টাকা যাওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাঁর হিসাবে অর্থ জমা হচ্ছিল, তাঁকে ডাকা হলেও তিনি হাজির হননি। তবে এত বছর পরে এই পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে কবিতা মণ্ডলের। সংসারের খরচ, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা এবং দুই ননদের দেখভাল—সব মিলিয়ে তাঁর লড়াই এখনও চলছে। সরকারি সাহায্য পাওয়ার আশায় তিনি আজও অপেক্ষারত।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories