ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননের রাজধানী বেইরুটে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে শীর্ষ সামরিক নেতা হাইথাম আলি তাবাতাবাই নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দাহিয়েহ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই আরও অন্তত পাঁচজন নিহত হয়।
হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়, কমান্ডার তাবাতাবাই দক্ষিণ বেইরুটের হারেত হেরেইক এলাকায় ইসরায়েলের বিশ্বাসঘাতক হামলায় প্রাণ হারান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়ে তাবাতাবাইকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর আগে থেকেই জানিয়েছিল যে তাবাতাবাইই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বার তাকে হত্যার চেষ্টা করল ইসরায়েল।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কুমতি বলেন, এই হামলা ইসরায়েলের লাল রেখা লঙ্ঘনের স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই হামলা লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় আরও উত্তেজনা ও সহিংসতার পথ খুলে দিতে পারে। তাবাতাবাই ১৯৬৮ সালে বেইরুটে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা লেবাননি এবং বাবা ইরানি। দক্ষিণ লেবাননেই তার বড় হওয়া এবং মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি হিজবুল্লাহতে যোগ দেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, হারেত হেরেইকের আল-আরিদ স্ট্রিটে আবাসিক ভবনে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যাতে আশপাশের গাড়ি ও ভবনগুলোতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আন্তর্জাতিক মহলের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লেবানন ও তার জনগণের ওপর আঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।
নভেম্বর ২০২৪ এর সংঘর্ষবিরতির পর থেকে এটি হিজবুল্লাহর সবচেয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় হামলা। মাত্র এক বছর আগেই দক্ষিণ বেইরুটে একইভাবে নিহত হয়েছিলেন হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। এই ঘটনার মধ্যেই কয়েক দিনের মধ্যে লেবানন সফরে আসার কথা ক্যাথলিক প্রধান পোপ লিও চতুর্দশের।


