মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নিজের অবস্থান বদলালেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাবরের নামে মসজিদ তৈরির অনুমতি রাজ্য সরকার দেবে না। সেই বক্তব্যের পরেই সুর বদলে ফেললেন হুমায়ুন। বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়ে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাই তাঁর আপত্তি থাকলে সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। নির্বাচনের প্রচারের সময়ই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করেন তিনি। সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। পরবর্তী সময়ে বেলডাঙায় মসজিদ নির্মাণের কাজও শুরু হয়।গত ২ নভেম্বর বেলডাঙায় প্রস্তাবিত মসজিদ চত্বরে আয়োজিত একটি সভায় ফের নিজের পরিকল্পনার কথা জানান হুমায়ুন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হবে। প্রশাসনের সেই কর্মসূচি আটকানোর ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখানোর চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি।এরপর বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, মুর্শিদাবাদের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে মসজিদ তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু বাবরের নামে মসজিদ হলে কোনওভাবেই নির্মাণের নকশা বা অনুমোদন দেওয়া হবে না। এই বিষয়ে জেলার জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন বলেন, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি যদি বাবরি নামের বিরোধিতা করেন, তাহলে তাঁর ইচ্ছাকে সম্মান জানানো উচিত। হুমায়ুনের এই বক্তব্যকে তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।এতদিন প্রকাশ্যে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসা হুমায়ুন এবার বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করতে চান না তিনি। ফলে মসজিদের নাম নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর এই অবস্থান বদলের পিছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্যদিকে, হুমায়ুনের মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, হুমায়ুনের কথাবার্তার কোনও স্থিরতা নেই। কখনও একরকম কথা বলছেন, আবার কখনও সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থান নিচ্ছেন তিনি। সজল ঘোষের কথায়, হুমায়ুনের মন্তব্যকে আর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন কথা বলেন। তাই তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ারও কোনও মানে হয় না বলে মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক।সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদে প্রস্তাবিত মসজিদের নাম এবং নির্মাণের অনুমতি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর অব্যাহত। আগামী ৬ ডিসেম্বরের কর্মসূচি ঘিরেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
বাবরি মসজিদের নামে আপত্তি শুভেন্দুর, মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে অবস্থান বদল হুমায়ুনের
Popular Categories

