হায়দরাবাদের তুক্কুগুড়া এলাকায় রবিবার গভীর রাতে একদল গরু ব্যবসায়ীর উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি পাহাড়ি শরীফ থানার অন্তর্গত এলাকায় ঘটেছে। আক্রান্তদের দাবি, নিজেদের ‘গোরক্ষক’ বলে পরিচয় দেওয়া একদল লোক এই হামলা চালায়।জানা গিয়েছে, ওই রাতে ব্যবসায়ীরা একটি গাড়িতে করে ১৪টি বলদ নিয়ে মাল্লেপল্লি থেকে একটি সাপ্তাহিক হাটে যাচ্ছিলেন। পথে একটি মোড়ে তাঁদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। অভিযোগ, হঠাৎ করেই বেশ কিছু লোক জড়ো হয়ে তাঁদের ঘিরে ফেলে এবং কোনও কথা না বলেই মারধর শুরু করে।আহতদের মধ্যে একজন জানান, তাঁরা বুঝে ওঠার আগেই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করলেও রেহাই পাননি তাঁরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের কাছে পশু পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র ছিল। কিন্তু হামলাকারীরা সেই কাগজ দেখার কোনও চেষ্টা না করেই মারধর চালিয়ে যায়।এই ঘটনায় এক গাড়িচালকের আঙুল ভেঙে যায় বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া যে গাড়িতে পশুগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, গাড়ি ও পশুর ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার লোকসান হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। ব্যবসায়ীদের কথায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে হামলাকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে অত্যাচার চালানোর সুযোগ পায়। এমনকি, হামলার মাঝে গাড়ি থেকে জোর করে বলদগুলো নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ।পরবর্তীতে সেই পশুগুলোকে কাছাকাছি একটি গোশালায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিনজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে মারধর ও জোর করে আটকানোর অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ব্যবসায়ীদের সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ প্রশাসন।
Popular Categories


