উত্তরপ্রদেশের কানপুরে “আই লাভ মুহাম্মদ” লেখা ব্যানার নিয়ে শুরু হওয়া একটি পুলিশি পদক্ষেপ এখন জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ সিভিল রাইটস জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২১টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং মোট ১,৩২৪ জন মুসলিমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এই ঘটনায়। এদের মধ্যে ৩৮ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে বলে যান যায়।
“আই লাভ মুহাম্মদ” লেখা ব্যানার এবং শান্তিপূর্ণ প্রচার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন একাধিক রাজ্যে পৌঁছে গেছে এবং পুলিশ প্রতিক্রিয়াও সেই অনুযায়ী বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারের খবর উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশ থেকে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে মোট ১৬টি এফআইআর হয়েছে এবং অভিযুক্তের সংখ্যা হাজারের বেশি। এমনকি শুধু কানপুর নয়, উন্নাও, বাগপত, কাইজারগঞ্জ, শাহজাহানপুর ও কৌশাম্বিতেও বহু মুসলিমদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের কাশীপুরে একটি মামলায় একসঙ্গে ৪০১ জন মুসলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গুজরাটের গোধরা ও বরোদা এবং মহারাষ্ট্রের বাইকুল্লাতেও একই ধরনের মামলা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ সিভিল রাইটস এই পদক্ষেপকে পক্ষপাতমূলক এবং মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। সংগঠনটির জাতীয় সম্পাদক নদীম খান বলেছেন, “নবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করাকে অপরাধ বানানো একটি ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত। ধর্মীয় অনুভূতি ও শান্তিপূর্ণ অভিব্যক্তিকে দমন করা হচ্ছে।” অন্যদিকে আইনজীবী মোহাম্মদ ইমরান খান জানান, “শান্তিপূর্ণ ব্যানার নিয়ে মিছিল করা অপরাধ হতে পারে না। এত সংখ্যক মানুষকে অভিযুক্ত করা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।” অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ সিভিল রাইটস আরও জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন বা জনস্বার্থ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বিষয়টি বিচার বিভাগের নজরে আনার জন্য আইনগত পদক্ষেপের দিকেই এগোচ্ছে সংগঠনটি বলে জানা যায়।


