Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে টালমাটাল বিমান শিল্প, পরিষেবা বন্ধের আশঙ্কায় কেন্দ্রের দ্বারস্থ FIA

ভারতের বিমান পরিবহণ শিল্প এখন গভীর সংকটের মুখে। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছে যে, একাধিক বিমান সংস্থা ভবিষ্যতে পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA)। এই সংগঠনের আওতায় রয়েছে দেশের বড় বিমান সংস্থাগুলি— Air India, IndiGo এবং SpiceJet। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যেই একটি ‘এসওএস’ বার্তা পাঠিয়েছে তারা।মূল সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ATF-এর লাগামছাড়া দাম। বিমান চালানোর ক্ষেত্রে এই জ্বালানিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ATF-এর দাম হু হু করে বাড়ায় বিমান সংস্থাগুলির খরচও বিপুল পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। এপ্রিল মাসে কেন্দ্র সরকার অভ্যন্তরীণ উড়ানের ক্ষেত্রে ATF-এর মূল দাম বৃদ্ধিতে ২৫ শতাংশ সীমা বেঁধে দিলেও আন্তর্জাতিক উড়ানের জন্য সেই দাম ১০০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হয়। আগামী মে মাসের জন্য আবার নতুন করে দাম সংশোধনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।FIA জানিয়েছে, আগে বিমান সংস্থাগুলির মোট খরচের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ যেত জ্বালানির পেছনে। কিন্তু এপ্রিল মাসের মূল্যবৃদ্ধির পর সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশে। ফলে বিমান পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সংগঠনের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু রুটে উড়ান চালানো আর লাভজনক থাকছে না।বিমান সংস্থাগুলির অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ATF-এর উপর অত্যন্ত বেশি ভ্যাট ধার্য করা হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বড় বিমান কেন্দ্র দিল্লিতে ATF-এর উপর ভ্যাট ২৫ শতাংশ। তামিলনাড়ুতে এই হার ২৯ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। অন্যদিকে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং কলকাতার মতো বড় বিমান কেন্দ্রগুলিতে ভ্যাটের হার ১৬ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে। এই ছ’টি শহর মিলিয়ে দেশের অর্ধেকেরও বেশি বিমান পরিষেবা পরিচালিত হয়। তাই দ্রুত ভ্যাট কমানোর দাবি তুলেছে বিমান সংস্থাগুলি।এছাড়াও, অভ্যন্তরীণ উড়ানের ক্ষেত্রে ATF-এর উপর থাকা ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে তুলে দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছে FIA। সংগঠনের মতে, ডিজেল ও পেট্রলের ক্ষেত্রে সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলেও ATF-এর ক্ষেত্রে তেমন কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক বেশি দামে এই জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমানগুলিকে ঘুরপথে উড়তে হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে জ্বালানি খরচ এবং অপারেশনাল ব্যয়। একই সঙ্গে টাকার দামের পতনও বিমান সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।FIA সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি দ্রুত কোনও আর্থিক সহায়তা বা নীতিগত পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে একাধিক বিমান সংস্থাকে বিমান মাটিতে নামিয়ে রাখতে হতে পারে। তার জেরে বাতিল হতে পারে বহু উড়ান। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি দেশের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories