Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

কেন্দ্র সরকার বিরোধী পোস্টে নিষেধাজ্ঞা!নতুন ডিজিটাল নীতির খসড়া প্রকাশে চাঞ্চল্য,১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মতামত চাইল মন্ত্রক

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নতুন তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ম ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মধ্যে এই নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সরকার-বিরোধী মত প্রকাশের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে। যদিও এই আশঙ্কাকে একেবারে ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছে মিনিস্ট্রি অফ ইলেকট্রনিক এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি।

সম্প্রতি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনে কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা চলছে। সেই উদ্দেশ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হল অনলাইনে খবর ও চলতি ঘটনার উপস্থাপনাকে আরও পরিষ্কার ও সুসংহত করা। তবে এটি কোনওভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার জন্য নয় বলে স্পষ্ট করেছে সরকার।

এই নতুন নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত নাগরিকদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানোও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই প্রসঙ্গে মন্ত্রকের সচিব এস. কৃষ্ণনান বলেন, “সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তা মুছে ফেলা হবে—এই ধারণা পুরোপুরি ভুল। সংবিধানের সীমার মধ্যেই সরকার কাজ করে এবং তার বাইরে গিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।” তাঁর এই বক্তব্যের পর কিছুটা হলেও বিভ্রান্তি কাটতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

খসড়া প্রস্তাবে মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা, বিদ্যমান আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা, বিভিন্ন বিষয়কে আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা এবং নিয়মগুলির কাঠামোগত উন্নয়ন। এছাড়া, খবর ও চলতি ঘটনাবলী সম্পর্কিত কনটেন্ট কীভাবে উপস্থাপন করা উচিত, সেই বিষয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে এই প্রস্তাবের একটি অংশ নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অনলাইন সংবাদ সংক্রান্ত কিছু বিষয় আংশিকভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হতে পারে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, এর ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং সরকার বিরোধী কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যদিও সরকারের বক্তব্য, এই আশঙ্কার কোনও ভিত্তি নেই। সংশ্লিষ্ট সমস্ত ক্ষমতা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের কাছেই থাকবে এবং কেবল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর উদ্দেশ্য হল তথ্যের সঠিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা, কোনওভাবেই মতামত দমন করা নয়।
নতুন এই প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলায় বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ ও আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত এই নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তা অনলাইন দুনিয়ায় কী প্রভাব ফেলে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories