পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়লেও, জ্বালানি পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষকে সতর্কভাবে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পরেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কিন্তু অন্যদিকে বিরোধীরা সেই তথ্য মিথ্যা বলে দাবি করছেন।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতের হাতে প্রায় দুই মাসের মতো অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত আছে। পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রেও দেড় মাসের মতো সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো সংরক্ষণ রয়েছে। এই মজুতের মধ্যে রেলপথে পরিবহণযোগ্য গ্যাসের চলমান সংরক্ষণ ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি ব্যবহারে সংযমের কথা বলেন। শুধু তাই নয়, তিনি দৈনন্দিন জীবনে কিছু ব্যয় কমানোর কথাও উল্লেখ করেন, যাতে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্তরে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে মন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে—যেমনটা অতীতে কঠিন সময়ে করা হয়েছিল।কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা হলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশ একদিকে যেমন নিজস্ব চাহিদা মেটাতে সক্ষম, তেমনি বহু দেশেও জ্বালানি রপ্তানি করে চলেছে। ফলে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনও বড় ধরনের সমস্যা আপাতত নেই।
Popular Categories


