রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। সেই আবহেই নতুন প্রস্তাব দিল ওয়াশিংটন। রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনিজুয়েলা থেকে তেল আমদানির পথে হাঁটতে পারে ভারত—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, আগামী কয়েক মাসে রাশিয়া থেকে তেল কেনা আরও কমাতে পারে ভারত।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে দৈনিক তেল আমদানি ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছে। জানুয়ারিতে যেখানে দৈনিক প্রায় ১২ লক্ষ ব্যারেল তেল কেনা হয়েছে, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে তা ১০ লক্ষের নীচে নামতে পারে। মার্চের মধ্যে এই পরিমাণ আরও কমিয়ে ৮ লক্ষ ব্যারেলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হলে তা ৫–৬ লক্ষ ব্যারেলেও নামানো হতে পারে।
এরই মধ্যে ভেনিজুয়েলার তেল ভারতকে বিক্রির আগ্রহ দেখাচ্ছে আমেরিকা। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর ভেনিজুয়েলার তেলের উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে ওয়াশিংটন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনিজুয়েলার তেল বাজারে এলে এক দিকে যেমন রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমবে, তেমনই আমেরিকার কূটনৈতিক লাভও হবে। তবে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা PDVSA-র সঙ্গে সরাসরি তেল কেনাবেচা সম্ভব কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। সেই কারণেই ভারতের উপর অসন্তুষ্ট ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়া থেকে আমদানি কমলে বিকল্প উৎস খুঁজছে ভারত। ভেনিজুয়েলার তেল নিয়ে আমেরিকার প্রস্তাব সামনে আসায় সেই ইঙ্গিতই এখন আরও জোরালো হচ্ছে।


