ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল এক অসাধারণ কীর্তি গড়েছে। শনিবার তারা থাইল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফলাফল নয়, এটি ভারতীয় মহিলা ফুটবলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। কারণ এই প্রথমবার ভারত কোয়ালিফায়ারের মাধ্যমে এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়িকা ছিলেন সংগীতা বাসফোর। তার দুটি দুর্দান্ত গোল ভারতকে এই জয় এনে দিয়েছে। প্রথম গোলটি এসেছিল ২৯ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত ছুটে এসে পেনাল্টি বক্সের কাছ থেকে তিনি একটি হাফ-ভলি শট মারেন। বলটি দু’বার মাটিতে ঠেকে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের নিখুঁত ফিনিশিং দেখে মনে হয়েছিল, এই দল কিছু বড় করতে এসেছে। দ্বিতীয় গোলটি এসেছে ৭৪ মিনিটে। গোলের সামনে সিংহীর মতো তৎপরতার সঙ্গে সংগীতা বলটি থাইল্যান্ডের জালে পাঠিয়ে দেন। এই গোলই ভারতের জয় নিশ্চিত করে।

থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয়টা তাই আরও বড় মনে হয় যে, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তারা ভারতের থেকে অনেক এগিয়ে। থাইল্যান্ড ৪৬ নম্বরে থাকলেও ভারত আছে ৭০ নম্বরে। ২৪ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ডকে হারিয়ে ভারতীয় মেয়েরা দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের মধ্যে কী অসাধারণ প্রতিভা আর জেদ লুকিয়ে আছে।
কিন্তু এই গর্বের মুষলধারায় মধেও একটা কালো ছায়া আছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য যথেষ্ট কিছু করছে না। এই জয়টা যদি কেউ মনে করে সরকারের সমর্থনের ফল, তাহলে তারা ভুল করছেন। এই সাফল্য পুরোপুরি খেলোয়াড়দের নিজস্ব পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির জয়। সরকারের তরফে কোনও বিশেষ সুযোগ বা পরিকাঠামো দেওয়া হয়নি। এই মেয়েরা যে পরিস্থিতিতে লড়াই করে এই জায়গায় পৌঁছেছে, তা দেখলে সরকারের উদাসীনতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ম্যাচের শুরুতে ভারত ভালোই এগিয়ে ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই থাইল্যান্ড গোল করে খেলায় ফিরে আসে। সেখান থেকে ভারতীয় দলের মরিয়া লড়াই আর সংগীতার দ্বিতীয় গোলই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয়। এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ ‘বি’-র শেষ ম্যাচে জিতে ভারত এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

এই সাফল্য ভারতীয় মহিলা ফুটবলের জন্য একটা নতুন দিনের সূচনা। তারা প্রমাণ করেছে, সঠিক সুযোগ পেলে তারা বিশ্বের যে কোনও দলের সঙ্গে লড়তে পারে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কেন্দ্রীয় সরকার কি এই প্রতিভাকে সত্যিই সমর্থন করছে? এই মেয়েদের এই জয় তাদের নিজেদের গল্প, যেখানে সরকারের ভূমিকা শূন্য। তবু, এই জয় ভারতের গর্ব, এই মেয়েরা আমাদের গর্ব।


