Tuesday, July 21, 2026
26.2 C
Kolkata

বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টকে হাতিয়ার করে ভারতের দারিদ্র্য ও বৈষম্য নিয়ে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা

ভারতের কেন্দ্রে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস দল। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্টের দিকে আঙুল তুলে তারা বলছে, দেশে দারিদ্র্য আর বৈষম্যের মাত্রা যে কতটা ভয়াবহ, তা আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এই সরকার বিশ্ব ব্যাঙ্কের তথ্যকে বিকৃত করে মিথ্যা দাবি করছে যে ভারত নাকি বিশ্বের সবচেয়ে সমতাপূর্ণ সমাজগুলোর একটি। কিন্তু সত্যিটা কী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে যায়।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের ‘পোভার্টি অ্যান্ড ইকুইটি ব্রিফ ফর ইন্ডিয়া’ রিপোর্টে যা বলা হয়েছে, তা শুনলে মাথা ঘুরে যায়। ২০২৩-২৪ সালে ভারতে যারা সবচেয়ে বেশি মজুরি পায়, তারা নিচের ১০% মানুষের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি আয় করে। এটা কি সমতার নমুনা? আরও ভয়ংকর তথ্য হলো, ২০২২ সালে $৩.৬৫ প্রতিদিন আয়ের দারিদ্র্যসীমা ধরলে ভারতের দারিদ্র্যের হার ২৮.১%। এই পরিসংখ্যান সরকারের দাবির চেয়ে অনেক বেশি। তাহলে কি আমরা এখনও বিশ্বাস করব যে ভারত উন্নতির পথে হাঁটছে? জয়রাম রমেশের কথায়, “এত দারিদ্র্য নিয়ে কোনও দেশ নিজেকে সমতাপূর্ণ বলে দাবি করতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, সরকার তথ্যের সঙ্গে ছলচাতুরি করে ভালো খবর বের করার চেষ্টা করছে, কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তি কতটা নড়বড়ে, তা কেউ যেন না জানে!

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস জোর দিয়েছে সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উপর। তারা বলছে, এমজিএনআরইজিএ আর জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইনকে আরও মজবুত করতে হবে। কেন জানেন? কারণ লক্ষ লক্ষ ভারতীয় এখনও চরম দারিদ্র্যের সীমার কাছাকাছি বাস করছে। একটু অর্থনৈতিক ঝড় এলেই তাদের জীবন তছনছ হয়ে যাবে। এই মানুষগুলোর কথা কি সরকার ভাবে? নাকি শুধু বড় বড় কোম্পানির মুনাফার দিকে তাকিয়ে থাকে?

কংগ্রেসের দাবিগুলোর মধ্যে আছে এমজিএনআরইজিএ-র মজুরি বাড়ানো, বহু দিন ধরে আটকে থাকা জাতীয় আদমশুমারি করা, আর খাদ্য নিরাপত্তা আইনের আওতায় আরও ১০ কোটি মানুষকে আনা। এই পদক্ষেপগুলো না হলে দারিদ্র্য আর বৈষম্যের জাল থেকে বেরোনো যাবে না। কিন্তু সরকার কি এসব শুনতে চায়? জয়রাম রমেশ তো সরাসরি বলেই দিয়েছেন, মোদী সরকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে রাখছে। যেমন, ২০১৭-১৮ সালের ভোগ ব্যয় জরিপের তথ্য কোথায় গেল? এত বড় দেশের অর্থনৈতিক ছবি পরিষ্কার করার বদলে সরকার কেন পরিসংখ্যান নিয়ে কারচুপি করছে?

আরও বড় কথা, জিএসটি নিয়ে সাধারণ মানুষের উপর যে চাপ পড়ছে, তা কমানোর জন্য সংস্কার দরকার। কর্পোরেটদের পক্ষপাতিত্ব বন্ধ করা দরকার। সাধারণ পরিবারের জন্য আয় সহায়তা বাড়ানো দরকার। কিন্তু এই সরকারের কাছে এসব কথা বললে কি লাভ? তারা তো বড় বড় কথা বলে আর কর্পোরেটদের পকেট ভরে। জয়রাম রমেশের শেষ কথাটা মনে রাখার মতো—ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যদি সবাইকে নিয়ে না হয়, তাহলে সেই প্রবৃদ্ধির দাম কী?

এই রিপোর্ট আর কংগ্রেসের কথা শুনে মনে হয়, আমরা এমন একটা দেশে বাস করছি যেখানে সত্যিটা লুকিয়ে রাখা হয় আর জনগণের দুঃখের কথা শোনার কেউ নেই। আপনার কী মনে হয়, এই সরকারের আমলে আমরা কি সত্যিই সুখী ভারতের স্বপ্ন দেখতে পারি?

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories