প্রায় সাত হাজার বছরের পুরনো ইরানি সভ্যতা বারবার আক্রমণের মুখে পড়েও টিকে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। যদিও পরিস্থিতি পরে যুদ্ধবিরতির দিকে যায়, তবুও ইরানের শক্তি ও স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা থামেনি।
ইতিহাস বলছে, বহু শক্তিশালী শাসক ইরান দখল করার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম আলেক্সান্দ্রা। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে তিনি পারস্য সাম্রাজ্য দখল করেছিলেন। এমনকি রাজধানী পার্সিপোলিসে আগুন লাগানোর কথাও ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ জেতার পরও তিনি পারস্য সংস্কৃতির প্রভাব থেকে বেরোতে পারেননি। স্থানীয় রীতি-নীতি গ্রহণ করেছিলেন এবং দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনের চেষ্টা করেছিলেন।
একইভাবে চেঙ্গিস খান-এর মঙ্গোল বাহিনীও ইরানের বহু শহর ধ্বংস করে দেয়। পরে তাঁর বংশধররাও সেখানে শাসন চালান। কিন্তু এত কিছুর পরও ইরানের সংস্কৃতি ও পরিচয় মুছে যায়নি। বরং শাসকরাই ধীরে ধীরে সেই সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের শক্তির মূল কারণ তার গভীর ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তি। দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা এই পরিচয় এতটাই দৃঢ় যে বাইরের আঘাতে তা সহজে ভাঙে না। পাশাপাশি দেশের ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পাহাড়ে ঘেরা বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সবসময়ই কঠিন। এই কারণেই ইতিহাসের নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও ইরান নিজের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। বর্তমান সময়েও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।


