মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা হলেও, বাস্তবে তার কোনও ইতিবাচক প্রভাব এখনও চোখে পড়ছে না। বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই সমঝোতার মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেইরুটে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক জায়গায় বোমাবর্ষণের ঘটনায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এই হামলায় বহু আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ইরান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননের পরিস্থিতিকে এই যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখা যাবে না। তাদের মতে, যদি লেবাননে হামলা চলতেই থাকে, তাহলে এই চুক্তির কোনও অর্থ থাকে না। কিন্তু ইসরাইলের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আমেরিকার উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকাকে ঠিক করতে হবে তারা সত্যিই শান্তি চায়, নাকি ইসরাইলকে সমর্থন করে সংঘাত চালিয়ে যেতে চায়। একসঙ্গে দুই অবস্থান নেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত না মানে, তাহলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমন মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ গালিবাফ। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার এই ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশল কোনও সমাধান আনতে পারে না। বরং এতে সংঘাত আরও বাড়বে।
এছাড়া ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা তাদের অধিকার। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, যদি ইসরাইলের আক্রমণ বন্ধ না হয়, তাহলে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইসলামাবাদে আসন্ন বৈঠকে ইরান তাদের নিজস্ব প্রস্তাবে অনড় থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত সমাধান না বের হয় এবং বড় শক্তিগুলি সংযম না দেখায়, তাহলে এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি খুব দ্রুত ভেঙে পড়ে বৃহত্তর সংঘাতে পরিণত হতে পারে।


