মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ‘হরমুজ প্রণালী’ একটা বহুল চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি ইরান দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে না দেয়, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, ইরান পাল্টা সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য বড় অঙ্কের টাকা দিতে হবে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজকে প্রায় ২০ লাখ ডলার টোল দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং সবাই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ‘হরমুজ প্রণালী’। এই সরু জলপথটি একদিকে ইরান এবং অন্যদিকে ওমানের মধ্যে অবস্থিত। বিশ্বে যে পরিমাণ তেল সমুদ্রপথে পরিবহন হয়, তার একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ভারত, চীন, জাপানসহ বহু দেশ এই পথের উপর নির্ভরশীল। তাই এখানে কোনও ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে।
ইরানের কাছে এই প্রণালী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই পথের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে তারা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিজেদের শক্ত অবস্থান দেখাতে পারে। প্রণালীর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল এর ভৌগোলিক গঠন। এটি খুবই সরু, কিছু জায়গায় প্রস্থ মাত্র কয়েক কিলোমিটার। ফলে বড় জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রুট মেনে চলতে হয়। এই কারণে সামান্য উত্তেজনাও বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় আবারও এই প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে, কারণ এই জলপথে কোনও বাধা তৈরি হলে তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


