ভোটের আগে কলকাতায় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে একদিকে পুলিশ সোনা পাপ্পুকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, আর অন্যদিকে সেই পাপ্পু নির্বিঘ্নে ফেসবুকে লাইভ করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু প্রশাসনই নয়, রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এই ব্যক্তির আসল নাম বিশ্বজিৎ পোদ্দার। কয়েক মাস আগে কাঁকুলিয়ায় গুলি চালানোর ঘটনার পর থেকেই তিনি আড়ালে রয়েছেন বলে জানা যায়। যদিও পুলিশ এখনও তাঁর হদিশ পায়নি, তবুও তিনি মাঝেমধ্যে ফেসবুকে লাইভে এসে নানা মন্তব্য করছেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
সম্প্রতি তিনি আবারও ফেসবুক লাইভে এসে সরব হন। সেই লাইভে তিনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে কথা বলেন এবং বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তিনি দাবি করেন, কিছু বিরোধী নেতার সঙ্গে গোপন সমঝোতা রয়েছে এবং সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন।
এই ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং কলকাতা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। জানা গেছে, শহরের একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আগেই বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের রয়েছে। তবুও তিনি কীভাবে এভাবে প্রকাশ্যে আসছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।কয়েক দিন আগে এই ঘটনার সূত্রেই কসবা থানার ওসিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ ছিল, এলাকায় সক্রিয় দুষ্কৃতীদের তালিকায় সোনা পাপ্পুর নাম রাখা হয়নি। ফলে প্রশাসনের ওপরও চাপ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক লাইভে তিনি আরও বলেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি কঠোর শাস্তি মেনে নেবেন। পাশাপাশি, তিনি অভিযোগ করেন যে তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশির সময় পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ করা হয়েছে, আর তৃণমূল পাল্টা বলছে, আইন অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।


