মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে। রবিবার ইরান তাদের মিত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-কে সঙ্গে নিয়ে ইজরায়েল-এর বিরুদ্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে। এই সংঘর্ষ এখন চতুর্থ সপ্তাহে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেন। তিনি সতর্ক করেন, তা না হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে তেহরানও কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এমন হামলে, ওই সমুদ্রপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এটি বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব পড়বে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করতে পারে। অন্যদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় বড় ক্ষতি এড়ানো গেলেও পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। সম্প্রতি দক্ষিণ ইজরায়েলের এক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়, যা একটি গোপন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের কাছাকাছি ছিল বলে জানা গেছে। এতে বহু মানুষ আহত হন। যদিও এই হামলায় প্রাণহানি কম হয়।
এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। ইতিমধ্যেই দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ পড়েছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বহু দেশ সমস্যায় পড়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল কমে গেছে। ফলে বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোকেও উৎপাদন কমাতে হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, লেবানন-এর রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন অভিযোগ করেছেন, ইজরায়েল দক্ষিণাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্থল অভিযানের ইঙ্গিত হতে পারে। পুরো পরিস্থিতি দেখে বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলা হলেও আপাতত দুই পক্ষই আপোষহীন লড়াইয়ের অবস্থানে রয়েছে। ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


