দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির এক তরুণ মুসলিম ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। মৃতের নাম মোহাম্মদ ফাইয়েজ (২৩)। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ থাকার পর হরিয়ানার পালওয়াল জেলার একটি খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় পরিবার গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে নানান মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফাইয়েজ দিল্লির মদনপুর খাদার এলাকার বাসিন্দা এবং জামিয়া হামদর্দের ছাত্র ছিলেন। গত ৭ মার্চ রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তখন রমজান মাস চলছিল, তাই রাতে নামাজ বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া অস্বাভাবিক মনে হয়নি। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, তিনি ভোরের মধ্যেই বাড়ি ফিরে আসবেন।
কিন্তু পরদিন সকাল পেরিয়ে গেলেও ফাইয়েজের কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ১১ মার্চ কালিন্দি কুঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাইয়েজ তাঁর পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ আবিদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সেই কথোপকথনে তিনি জানান, ট্রেনে যাত্রার সময় চারজন অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে একজন নিজেকে হরিদ্বারের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয় এবং ভাদোদরায় একটি কাজের প্রস্তাব দেয়। তবে কিছুক্ষণ পরই তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ফাইয়েজ মথুরা স্টেশনে নেমে পড়েন।
সেই ফোনালাপে ফাইয়েজ জানান, তিনি বিপদে পড়ে গেছেন বলে মনে করছেন এবং আশঙ্কা করছেন যে ওই ব্যক্তিরা প্রতারক হতে পারে। তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে তিনি দ্রুত দিল্লিতে ফিরে আসবেন। কিন্তু সেটিই ছিল তাঁর শেষ যোগাযোগ। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং আর কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি তদন্তে যথেষ্ট দেরি হয়েছে। এফআইআর নথিভুক্ত করতে দেরি হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও খুব বেশি তথ্য জানানো হয়নি। যদিও পুলিশ ফোন ট্র্যাকিং শুরু করেছিল, তবুও সময়মতো কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি পরিবারের। অবশেষে ২১ মার্চ হরিয়ানার পালওয়াল পুলিশ পরিবারকে জানায়, ১৭ মার্চ একটি খাল থেকে যে অজ্ঞাতপরিচয় দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি ফাইয়েজের। তাঁর মোবাইল ফোন, আধার কার্ড ও পোশাকের মাধ্যমে দেহটি শনাক্ত করা হয়। দেহটি এতটাই পচে গিয়েছিল যে মুখ দেখে চেনা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ময়নাতদন্ত হওয়ার পর রিপোর্ট এখনো সামনে আসেনি বলে জানা গিয়েছে। মৃত্যুর কারণ দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি খুন—তা এখনো স্পষ্ট নয়। ৮ মার্চ শেষ ফোনালাপে এবং ১৭ মার্চ দেহ উদ্ধারের মধ্যে এই দীর্ঘ সময় কীভাবে কাটল, তা নিয়েও রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশ কল রেকর্ড, লোকেশন ডেটা এবং তাঁর গতিবিধি খতিয়ে দেখছে।ফাইয়েজের পরিবারের দাবি, শেষ ফোনালাপে যে আতঙ্কের কথা তিনি বলেছিলেন, তা যদি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হত, তাহলে হয়তো তাঁকে বাঁচানো যেত। বর্তমানে দিল্লি ও পালওয়াল পুলিশের যৌথ তদন্ত চলছে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কয়েকজন যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গেও এই ঘটনাকে যুক্ত করে দেখছেন স্থানীয়রা। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।


