রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনার আবহ। কোথাও কোথাও ছোটখাটো সংঘর্ষ, দখলদারি ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসছে। এই পরিস্থিতির জেরে একাধিক এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলিও এগিয়ে এসে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ও ক্যানিং অঞ্চলে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত ১৮ বাকি অঞ্চলের দক্ষিণ দাহারানি গ্রামে একটি সভার আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয় আইএসএফ।রবিবার অনুষ্ঠিত ওই সভায় এলাকার বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অঞ্চল সভাপতি জিয়ারুল ইসলাম ঢালি, সম্পাদক আচাদ আলি ঘরামী এবং অন্যান্য নেতৃত্ব যেমন মুজাহিদুল মোল্লা, মহিবুল সরদার ও হাবিব গাজী। সভায় মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, কোনও অবস্থাতেই সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। বক্তারা বলেন, সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হলে সকলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিয়ারুল ইসলাম ঢালি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দোকান দখল, বাড়িঘরে হামলা এবং লুটপাটের মতো ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দল এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।এছাড়াও সভা থেকে প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়, যাতে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে গুজব বা প্ররোচনায় পা না দেন।এই সভার মাধ্যমে এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার পরিবেশ বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Popular Categories


