দক্ষিণ লেবাননে একটি মাতা মেরির মূর্তিকে অসম্মান করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। ওই ছবিতে দেখা যায়, এক ইসরায়েলি সেনা মাতা মেরির একটি মূর্তির মুখে সিগারেট দিয়েছে এবং নিজেও ধূমপান করছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি কয়েক সপ্তাহ আগে ঘটলেও সম্প্রতি ছবিটি প্রকাশ্যে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত ডেবেল গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছিল। এর আগেও একই এলাকায় এক সেনার বিরুদ্ধে যিশুর মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু মূর্তি ভাঙচুরই নয়, এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা গ্রামের জল সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পাশাপাশি বাড়িঘর, রাস্তা এবং জলপাই গাছও নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনাগুলি এমন সময়ে ঘটছে, যখন ইসরায়েল লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান বাড়িয়েছে। রাজধানী বৈরুতসহ একাধিক এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লার ঘাঁটি এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। তবে এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এদিকে, খ্রিস্টানদের প্রতি আচরণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা বেড়েছে। জেরুজালেমে এক ফরাসি সন্ন্যাসিনীর উপর হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনা হয়েছে। যদিও এই ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে এলে ইসরায়েলি প্রশাসন দ্রুত নিন্দা জানায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমগ্র পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


