মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর সামনে আসছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের পর কিছু দুষ্কৃতী পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জেলার একাধিক এলাকায় হঠাৎ করেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
মঙ্গলবার বিকেলে মুর্শিদাবাদের সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজে একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই কলেজের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে একাধিক গেরুয়া পতাকা টাঙিয়ে দেয়। পাশাপাশি শোনা যায় উত্তেজনামূলক স্লোগান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এরপরই জিয়াগঞ্জ এলাকায় আরও একটি ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ উঠেছে, একদল ব্যক্তি সেখানে থাকা লেনিনের মূর্তিটি ভেঙে ফেলে। প্রথমে মূর্তির মাথা ভাঙা হয়, পরে পুরো কাঠামোটিকেই মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। সেই সময় কিছু মানুষ ধর্মীয় স্লোগান দিতে থাকে বলেও অভিযোগ। একইসঙ্গে সেখানে অন্য একটি মূর্তি বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে পাল্টা অভিযোগের পর্ব শুরু হয়েছে। বিরোধী পক্ষের দাবি, শাসক দলের সমর্থকরাই এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, শাসক দলের নেতাদের একাংশের বক্তব্য, এই ঘটনার পেছনে অন্য রাজনৈতিক দলের হাত থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে অনেক নেতার কাছ থেকেই সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর কিছু স্বঘোষিত গোরক্ষক বিভিন্ন জায়গায় গরু বহনকারী গাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। এইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।


