দক্ষিণ লেবাননে একটি ধর্মীয় প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একটি ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, একজন ইসরায়েলি সেনা হাতুড়ি দিয়ে যিশুর মূর্তিতে আঘাত করছেন। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নিন্দার ঝড়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লেবাননের ডেবেল গ্রামের এক বাড়ির সামনে থাকা ক্রুশের উপরই এই যিশুর মূর্তিটি স্থাপন করা ছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ডেবেল গ্রামটি এমন কয়েকটি এলাকার মধ্যে পড়ে, যেখানে ইসরায়েল ও হেজবোল্লার সংঘর্ষ চললেও কিছু মানুষ এখনও বসবাস করছেন।
স্থানীয় চার্চের প্রধান ফাদার ফাদি ফ্লাইফেল জানিয়েছেন, এই ধরনের কাজ তারা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেন না। তাঁর কথায়, “ক্রুশ আমাদের কাছে পবিত্র প্রতীক। এর অবমাননা মানবাধিকারের বিরোধী এবং সভ্যতার পরিপন্থী।” তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী । তাদের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সেনার আচরণ বাহিনীর আদর্শের পরিপন্থী। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে মূর্তিটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি সাময়িকভাবে সংঘর্ষ থামালেও, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তুলেছে।
এই ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি হওয়া জরুরি। একইভাবে মার্কিন রাজনীতিবিদও এই ঘটনাকে “ভয়াবহ” বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইসরায়েলকে নিয়ে আন্তর্জাতিক জনমতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আমেরিকার প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মত পোষণ করছেন, যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই জেরুজালেমে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যখন একটি গির্জায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় খ্রিস্টান ধর্মগুরুকে। সেই ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও ইসরায়েলের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশের তুলনায় সেখানে খ্রিস্টানদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রয়েছে। তবুও, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


