যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক স্লোগান এবং গ্রাফিতি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এর মধ্যেই রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু দেওয়ালে থাকা বিতর্কিত লেখা মুছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। স্লোগানের উপর চুনকাম করে ঢেকে দেওয়া হয় লেখা। তবে এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন একাংশের পড়ুয়া। তাঁদের বক্তব্য, দেওয়াল মুছে দিলেই মতপ্রকাশের জায়গা বন্ধ করা যাবে না।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি দেওয়ালে লেখা স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ‘কিষেনজি স্যালুট’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো লেখা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে থাকবে, তা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। এই ধরনের লেখাকে ‘আবর্জনা’ বলেও মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বিতর্কিত লেখাগুলি সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কড়া বার্তা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ড্রোন ব্যবহারের কথাও বলেন তিনি।
এর পরেই দেওয়াল পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই কি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের বক্তব্য, দেওয়াল থেকে লেখা সরানোর কাজ নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর দাবি, সামনে থাকা কিছু স্লোগানই আপাতত মুছে ফেলা হয়েছে।
তবে পড়ুয়াদের একাংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। তার মধ্যে একাধিক দেওয়াল থেকে লেখা মুছে দেওয়াকে সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হিসেবে দেখা কঠিন। এই পরিস্থিতিতে সোমবার ফের দেওয়াল লেখার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেওয়াল লিখন নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপিও। তাদের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশবিরোধী রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। বিতর্কিত স্লোগান সরানোর পাশাপাশি নকশাল ও মাওবাদী মতাদর্শের প্রভাবও ক্যাম্পাস থেকে দূর করার কথা জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। ক্যাম্পাসের কোথাও আপত্তিকর স্লোগান থাকা উচিত নয় বলেই তাদের মত। তবে কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা চিন্তার উপর আঘাত করাও কাম্য নয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে এসএফআই আবার দেওয়াল লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংগঠনের নেতা অভিনব বসুর দাবি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ পড়ুয়ারা মিলে ফের দেওয়াল লিখবেন। ফ্যাসিবাদ বিরোধী বক্তব্য তুলে ধরার কর্মসূচি বন্ধ হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার দাবি তুলেছে এসএফআই। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের প্রকৃত ছাত্রমত স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে দেওয়াল লিখন এখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু রং-তুলির বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাতের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের।


