উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার ডুমারিয়াগঞ্জে এক প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রবীণ মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তি খাবার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেই সময় তাঁকে বলপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বৃদ্ধের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘জয় শ্রী কৃষ্ণ’ বলার জন্য বলেন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি স্পষ্টভাবে জানান যে এই উচ্চারণ করলেই কেবল প্রসাদ দেওয়া হবে। বৃদ্ধ ব্যক্তি প্রথমে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও পরে পরিস্থিতির চাপে উচ্চারণ করেন। এরপর তাঁকে প্রসাদ দেওয়া হয়।অভিযুক্ত যে ব্যক্তিকে ভিডিওতে দেখা গেছে, তাঁর নাম লভকুশ ওঝা। সামাজিক মাধ্যমের তাঁর প্রোফাইলে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও দলীয়ভাবে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।ঘটনাটি ঘটে ‘বড়া মঙ্গল’-এর সপ্তম দিনের অনুষ্ঠানে। ওই উপলক্ষে ডুমারিয়াগঞ্জের একটি বিজেপি কার্যালয়ে প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এই কর্মসূচি রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান থেকেই সামনে আসে বিতর্কিত এই ভিডিও।ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও ব্যক্তিকে খাবার বা প্রসাদ পাওয়ার জন্য ধর্মীয় স্লোগান বলতে বাধ্য করা কতটা গ্রহণযোগ্য। মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে এভাবে শর্ত দেওয়া উচিত নয়। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এই ঘটনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। কয়েকদিন আগে তিনি বলেছিলেন, ভারতে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নন— এমন দাবি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলির বহু ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভারতে আশ্রয় নিতে আসেন, যা ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রমাণ।রিজিজু আরও দাবি করেন, দেশের সংবিধান সকল নাগরিককে সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভুল ধারণা ছড়ানো দেশের স্বার্থের পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।তবে উত্তরপ্রদেশের এই ভিডিও সামনে আসার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাস্তব পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে কোনও ফারাক রয়েছে কি না। ঘটনাটি নিয়ে এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।
যোগী রাজ্যে বৃদ্ধ মুসলিমকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলার শর্তে খাবার, ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রশ্নের মুখে বিজেপি কর্মী
Popular Categories


