রাজস্থানের জয়পুরে একটি রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের মালভিয়া নগর এলাকায় অবস্থিত নুরানি মসজিদের একটি অংশ ভাঙার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকে এই অভিযান চালানো হয়। ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় যানজট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু রাস্তার প্রস্থ কম হওয়ায় যানবাহনের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছিল। সেই কারণেই রাস্তা চওড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাস্তার ধারে থাকা কয়েকটি স্থাপনার অংশ সরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে প্রশাসনের কর্মীরা পুলিশ বাহিনী নিয়ে এলাকায় পৌঁছান। এরপর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভাঙার কাজ শুরু হয়। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নয়নমূলক এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল যান চলাচলকে আরও সহজ ও নিরাপদ করা। রাস্তা সম্প্রসারণ সম্পূর্ণ হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে তাঁদের দাবি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যানজটের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলভাবে বিষয়টি দেখা উচিত ছিল। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও বজায় রাখা হয়েছে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি না হয়।
বর্তমানে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রশাসনের আশা, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে মালভিয়া নগর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধান মিলবে। তবে নুরানি মসজিদের অংশ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আগামী কয়েকদিন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকতে পারে।


