রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে একসময় যে আমেরিকা ভারতকে রুশ তেল কিনতে বলেছিল, আজ তারাই এই ইস্যুতে ভারতের ওপর চড়া শুল্ক বসাচ্ছে।
ফিনল্যান্ডে আয়োজিত ‘কুলতারান্তা টকস’-এর একটি অধিবেশনে মার্কিন প্রশাসনকে নিশানা করে জয়শঙ্কর বলেন, “এখানে কোনো মহান আদর্শ জড়িয়ে আছে বলে নাটক করার প্রয়োজন নেই। আমেরিকা যখন নিজেদের সুবিধা হয় তখন একরকম নিয়ম করে, আর সুবিধা না থাকলে অন্যরকম।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা নিয়ে এক সাংবাদিক অভিযোগ তোলেন, ভারত রাশিয়ার প্রতি “অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল” এবং রুশ তেল কিনতে “বেশি আগ্রহী”। এর জবাবে ভারতের জ্বালানি নীতির পক্ষে সওয়াল করে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত সবসময় তেলের দাম এবং সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়। যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বাজার থেকে তেল কেনা শুরু করে। ফলে পরিস্থিতির চাপেই আমরা রাশিয়ার থেকে তেল কিনি।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২২ সালে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পর বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি রুখতে ওয়াশিংটন নিজেই ভারতের দ্বারস্থ হয়েছিল। জয়শঙ্কর বলেন, “সেই সময় তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমেরিকা সরাসরি ভারতকে রুশ তেল কেনার অনুরোধ জানিয়েছিল।”
শুধু আমেরিকা নয়, অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে ইউরোপের দ্বিমুখী নীতিকেও একহাত নেন তিনি। বিদেশমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, আজ পর্যন্ত ভারতের কোনো অস্ত্র দিয়ে ইউরোপে আক্রমণ চালানো হয়নি। অথচ ইউরোপ এমন সব দেশে অস্ত্র বিক্রি করে, যা বহু বছর ধরে ভারতকে আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ভারতীয়রা কোনোদিন ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করিনি।” ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়েই পশ্চিমা দুনিয়ার দ্বিচারিতা নিয়ে জয়শঙ্করের এই ক্ষুরধার বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
‘আগে বলল রুশ তেল কেনো, এখন বসাচ্ছে শুল্ক!’ আমেরিকার ভোলবদল নিয়ে অসন্তুষ্ট জয়শঙ্কর
Popular Categories


