মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই জেরুজালেমকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। খ্রিস্টানদের অন্যতম পবিত্র উৎসবের সময় চার্চে প্রবেশ নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
সূত্রের খবর, পাম সানডে উপলক্ষে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক চার্চ অফ দা হোলি সেপালকারে প্রার্থনা করতে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়েন খ্রিস্টান ধর্মগুরু কার্ডিনাল পিয়েরবাতিস্তা পিৎজাবাল্লা-সহ একাধিক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা। চার্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, বহু শতাব্দীর ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল, যখন গির্জার প্রধানদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। চার্চের তরফে জানানো হয়, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি খ্রিস্টান মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। কারণ পাম সানডে থেকেই শুরু হয় পবিত্র সপ্তাহ, যা খ্রিস্টানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই আগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে ধর্মীয় নেতারা গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করতে পারেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমিত আকারে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে জেরুজালেমের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান—যেমন পশ্চিম প্রাচীর এবং আল-আকসা মসজিদ—এখনও সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইজরায়েল দাবি করেছে, ইরানের তরফে হামলার আশঙ্কা রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শহরের খুব কাছে আছড়ে পড়েছে। তাই বড় জমায়েত এড়াতেই এই কড়াকড়ি করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মহলেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এই ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পবিত্র স্থানগুলিকে রক্ষা করা এবং সেখানে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়াও বিভিন্ন মুসলিম দেশ আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, ধর্মীয় স্থানে এই ধরনের বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সামিল। ধর্মীয় অনুভূতি, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন—এই তিনের সংঘাতে জেরুজালেমের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে বলে জানা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।


